ফেসবুক থেকে নেয়া

Share On Social

চুয়াডাঙ্গায় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র কর্তৃক বাক্ প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষিত!
.
কুমিল্লায় ৯ বছরের শিমু অজ্ঞাত লোক কর্তৃক ধর্ষিত এবং খুন!
এই অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি দুজনকে খুজে বের করছে পুলিশ, তাদের সবার বয়স ৪৫ এর উপরে হবে।
.
কক্সবাজারে নিজ পিতা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষিত!
বর্ণনায় দেখা যায় মেয়েটির মা মারা যাওয়ার পর, তার মেয়েকে স্বামীর ঘর সংসার করা থেকে বিরত রাখে। এবং জোড় করে তাকে আট মাস থেকে ধর্ষণ করে আসতেছে। মেয়েটি এখন প্রেগন্যান্ট!!
.
এসব ছিল কয়েকটা পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম।
ভাবা যায়!! সমাজটা কত নিচুতে নেমে গেছে!
.
একজন ছেলের বয়ঃসন্ধিকাল চলে আসে ১৩-১৬ বছরের মধ্যে। এই সময়টার পর থেকে ছেলেরা মেয়েদের প্রতি আকর্ষিত হয়। কিন্তু একটা দশ বছরের ছেলের কিভাবে যৌন উত্তেজনা আসে তা আমার জানা নেই। সম্ভবত কোন বিজ্ঞানীও এই অদ্ভুত কারনটা খুজে বের করেনি এখন পর্যন্ত।
.
দশ বছর বয়সে আমরা কি করতাম জানেন? গরম কালে কমপক্ষে তিন থেকে চারবার গোসল করতাম পুকুরে। কিন্তু বাসায় শুধুমাত্র একবার প্যান্ট পাল্টাতে পারতাম। অর্থাৎ ভেজা গায়ে বাসায় একবার যাইতে পারব, তা না হলে মাইর অবধারিত ছিল (গোসল বেশি করার কারনে)। আর বাকি দুবার কিভাবে গোসল করতাম জানেন? প্যান্ট খুলে, ন্যাংটা হয়ে ????। গোসল শেষে রোদের মধ্যে দাড়িয়ে গা শুকায়ে প্যান্ট পড়ে এবং চোখের লালচে ভাব কিছুটা কমলে বাসা যেতাম।বিকালটা কাটায় দিতাম ঘুড়ি উড়ায়ে, কিংবা লাটিমের বনবন শব্দের ঝঙ্কার তুলে অথবা পাড়ার মেয়েদেরকে প্রতিপক্ষ করে গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা খেলে। কখনো বা দিয়াশলাইের কাগজ দিয়ে তাস খেলিয়ে। দিব্যি চলে যেত দিনকাল।এ সময়টা কখনই জৈবিক চাহিদার কথা মাথায় আসেনি।আর আসার কথাও না।
.
আর বর্তমান একটা দশ বছরের ছেলের দৈনন্দিক কার্যক্রম কি জানেন? সকালে উঠে কোচিং, তারপর স্কুল, বিকেলে প্রাইভেট রাত্রে আরবী শিক্ষা। এত চাপের মধ্যে তার খেলাধুলা করার সময় কোথায়? যে টুকু সময় পায় তা হয়ত কম্পিউটারে বিভিন্ন প্রকার গেইম,রোমান্টিক সিনেমা কিংবা পর্ণসাইট গুলো ভিজিট করেই কাটিয়ে দেয়।তাহলে তারা অকালে পাঁকবে নাকি আমরা পাঁকবো?
.
দ্বিতীয় শিরোনামেও একটা ছোট মেয়েকে ধর্ষণসহ হত্যা করেছে পঁয়চল্লিশার্ধো দুজন লোক। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র এডাল্ট মেয়ে ছেলের প্রতিই কামনা বাসনার সৃষ্টি হয়। আর এটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের লক্ষন। কিন্তু যারা মানুষিক বিকার গ্রস্ত লোক তাদের মাথায় এসব ঘৃণাজনক চিন্তাভাবনার সৃষ্টি হয়। এসব লোকদের সাইকিয়াটিস্ট দেখা খুবই প্রয়োজন। কারো মনে যদি এরকম বিকৃত চিন্তা ভাবনা কাজ করে তবে দয়া করে একজন সাইকিয়াটিস্টের শরণাপন্ন হবেন।
.
শিরোনাম নম্বর তিন। একজন বাবার কাছে যদি তার আপন মেয়ে সুরক্ষিত না থাকে তবে সমাজ কতটা খারাপ জায়গায় নেমে গেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এসব মানুষদের শূলে চড়িয়ে হত্যা করা উচিত। ছিঃ, ধিক্কার জানাই এসব মানুষদের প্রতি।
.
ঘটা করেই পালিত হল এবারের নারী দিবস। কিন্তু এই নারী দিবসেই যে কতগুলো নারী সমাজের পুরুষের কাছে লাঞ্চিত ধর্ষিত হয়েছে তার কি কোন ইয়ত্তা আছে।
নারী দিবসের একদিন আগে আমরা দেখেছি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে কতগুলো ছেলের কাছে লাঞ্চিত হওয়া অদিতি বৈরাগী, কলেজ বান্ধবী আফরিনা আসাদ মেঘলা সহ আরো বেশ কয়েকজনকে। শুধুমাত্র যারা সাহস করে ফেবুতে পোষ্ট করেছে তাদের কথাগুলোই মানুষ জানে। বাকিগুলো থেকে যায় নিভৃতে -নীরবে। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া ছেলেগুলো হয়ত অধিকাংশই দলীয় ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাবে। ইতিহাসের পাতায় রচিত হবে আরেকটি বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত। রচিত হবে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা ও মেয়ের ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার আর একটা করুন কাহিনী।
দেশে যতগুলো ধর্ষণ সংঘটিত হয় তার সব গুলো কি মিডিয়ায় আসে? না আসেনা! এসব ঘটনা হারিয়ে যায় সমাজের বিভিন্ন চাপে, কিংবা লোক লজ্জার ভয়ে মুখ না খুলে। ঘটনাটি হয়ত একসময় সবাই ভুলেই যায়, কিন্তু ধর্ষিতা মেয়েটি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটা মানসিক সমস্যা নিয়ে বড় হয়। সেটা হল পুরুষের প্রতি ঘৃণা।তার ঘাঁ কোন ওষুধেই সারেনা কখনো। মাঝে মাঝে এই ঘাঁ এর ফ্লুইড চুইয়ে চুইয়ে পরে তার চোখের মনি দিয়ে। ভিজে যায় বালিশ। ফ্লুইডগুলো হয়ত ভোর আসার আগেই শুকিয়ে যায়। কিন্তু মেয়েটির ঐ ঘাঁ কোন ভোরেই শুকায় না। ব্যাথা দিতে থাকে আমৃত্যু।
.
আসুন ভালবাসি ও সম্মান করি সকল নারীকে, মানুষ হিসেবে, নারী হিসেবে নয়।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.