বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও আমার অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা!!!

লিখেছেনঃ মোহাম্মদ জুনায়েদ

আমি প্রথমবার যখন এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে গিয়ে উঠেছিলাম।তো গিয়ে দেখি ঐ রুমে একজন লোকাল ছাত্রনেতা বিমানে চড়ে বার এর লিখিত পরীক্ষা দিতে এসেছে। একটু পর পর নেতার ফোন আসছে – আর নেতা বলছে – আজকে এখানে এসে বহু টাকা লস হয়ে গেলো!!! আজকে চট্রগ্রাম থাকলে থানার দালালী থেকে ইনকাম হত মিনিমাম ৫০০০০ টাকা।তো নেতা কিন্তু পড়াশোনা করছেন না, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শুধু তদ্বির করছেন!!! অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে দেখা করা শেষে উনি রাত ১২ টার দিকে হলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন আর তখনো আমার রিভাইজ দেওয়া বাকী।
নেতার এরকম কর্মকান্ডে আমি মনে মনে হেসেছি। আমি বার পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে সিনিয়রদের কাছে শুনেছি- বাংলাদেশের সবচে অনিশ্চিত পরীক্ষা হচ্ছে এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষা। আপনি বিসিএস/ বিজেএস পরীক্ষায় পাস করবেন নাকি ফেল করবেন তা পরীক্ষার পর আপনি বলতে পারলে ও এডভোকেটশীপ পরীক্ষার কথা আপনি বলতে পারবেন না।এই যুগে সবচে এনালগ পরীক্ষা হয় যেখানে একজনের খাতা অপরজন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ আছে। এই জন্য নেতা পড়াশোনা না করে এত রাত পর্যন্ত্য তদ্বির করেছেন!!!
পরের দিন ঢাকার একটি কলেজে আমি ভালো মতই পরীক্ষা দিয়েছি। মোটামুটি ফুল আনসার। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার রেজাল্টে দেখা গেলো – আমি ফেইল কিম্তু নেতা পাস!!!
না, আমি ফেইল করেছিলাম বলে বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি খারাপ তা আমি নিশ্চিত করে বলছি না। তবে আমি নিজের পরিচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২০ জনকে চিনি যারা প্রথম বারেই বিসিএস/ বিজেএস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে বর্তমানে চাকরি করছেন কিন্তু বারের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
যাই হোক, পরের বার আমি সম্পূর্ণ ভাগ্য এর উপর ছেড়ে দিয়ে স্থানীয় হযরত আমানত শাহ এর মাজারে মোমবাতি দিয়েছিলাম, যাতে উপরওয়ালা আমার খাতা আর আমাকে রক্ষা করেন।হ্যা, ২য় বার আমি পাস করেছি, কিছু দিন পর বিচারক ও হয়েছি।
গত কয়েকদিন আগে আইনের কিছু ছাত্রকে কিছু দাবী নিয়ে হাইকোর্টে অনশন করতে দেখলাম।কিন্তু দেশের কোনো আইনজীবী সংগঠন তাদের পাঁশে গিয়ে দাড়ায়নি।শেষপর্যন্ত পুলিশ তাদের কোল্ড ড্রিংকস খাইয়ে বিদায় দিয়েছে!!!
অথচ তারা খুবই স্পষ্ট ও ন্যায্য কিছু দাবী তুলেছিলো যার মধ্যে প্রধান দাবী ছিলো নিয়মিত বারের পরীক্ষা নেওয়া ও লিখিত পরীক্ষায় ওএমআর শীট সংযুক্ত করা। কিন্তু কেউই ওদের পাশে দাড়ায়নি। বাংলাদেশে আইন পেশা যে কতটা আনওয়েলকামিং পেশায় পরিণত হয়েছে তা ঐ ছাত্রদের অনশণ থেকে পরিস্কার। অথচ ওরা জীবনের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ৫/৬ বছর সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে নষ্ট করে ওরা যখন আইনজীবী হয় তখন তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়!!! আত্মবিশ্বাসী, আত্মমর্যাদাবান ও যোগ্য আইনজীবী ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্বশর্ত অথচ আইনজীবী হতে যাওয়া মেধাবী তরুণদের পাশে কেউ নাই!!!!
দেশের প্রত্যেক জেলায় সচেতন শিক্ষানবীশ আইনজীবীরা নিজেদের মর্যাদার স্বার্থে সংগঠন গড়ে তুলুক।বিচার ব্যবস্থায় কায়েমী স্বার্থ নিপাত যাক। আইন পেশা ও শিক্ষায় স্বচ্ছতা, ও জনগনের নিয়ন্ত্রন আসুক।শিক্ষা নবীশ আইনজীবীরা আধুনিক ক্রীতদাসের জীবন থেকে মুক্তি চায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.