মায়ার বাঁধন ১১তম পর্ব

মায়ার বাঁধন

১১তম পর্ব
বিয়ের দিন সকাল থেকেই আমি মনে মনে প্রীতম সাহেব আর পরীর আসার অপেক্ষা করছি। বেশ কয়েকবার কল দিয়ে তাড়াতাড়ি আসার জন্যও বলেছি কিন্তু হঠাৎ প্রীতম সাহেবের কি কাজ পড়ায় আস্তে দেরি হচ্ছে। এদিকে বিয়ে বাড়ির সব লোকজন চলে এসেছে, খাওয়া দাওয়া পর্ব চলছে। আমাকেও সাঁজানো শেষ, আমি নতুন বউ সেজে বসে আছি। ওদের আসতে দেরি হচ্ছে দেখে মনের মধ্যে কেমন অস্তিরতা কাজ করছে। এদিকে রুমনও বর বেশে যেকোন সময় চলে আসবে, রাস্তায় আছে কল দিয়ে জানিয়েছে কিছুক্ষন আগেই।
ভয় হচ্ছে সত্যি কি প্রীতম সাহেব আসবে বিয়েতে নাকি না আসার জন্য বারবার অজুহাত দিচ্ছে? প্রীতম সাহেব তো এমন মানুষ নয়, কথা দিয়ে কথা রাখবে না এটা হতে পারে না, উনি নিশ্চয় আসবে, সত্যি হয়তো ঝামেলায় পড়েছে। নাকি এত আগে আসতে চাইছে না বলে দেরি করছে? আচ্ছা একেবারে আমার বিদায়ের সময় আসার পরিকল্পনা করেননি তো আবার? নানা ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
একজন কিছু খাবার এনে আমাকে খাওয়ার জন্য বললো যে সবাই চলে আসলে আর কিছুই খেতে পারবো না তাই যেন তাড়াতাড়ি একটু খেয়ে নিই। আমি খাবো না বললাম, কিছু না খেলে এতসময়ে অসুস্থ হয়ে পড়বো শেষে তাই তিনি নিজেই জোর করে একটু খাইয়ে দিলো।
এদিকে বর এসছে বর এসছে বলে চিৎকার কানে এলো, সবাই সেটা শুনে দৌড়ে গেলো বর দেখতে আমাকে একা রেখে। বরকে বরন করে আসনে বসানো হলো। আসার পর চুপ করে রুমন একবার আমাকে কল দিয়েছিলো কেমন লাগছে জানতে। আমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে বউ সাজে কেমন লাগছে, কখন দেখতে পাবে সেই চিন্তা করছে বলতেই কেউ পাশে থেকে বললো আরে একটু পরেই তো সব দেখতে পাবি এখনই এত পাগল হলে চলবে? ফোনটা এবার রাখ। ওটা শুনে রুমন তাড়াতাড়ি কলটা কেটে দিলো কিছু না বলেই।
বর পক্ষের লোকজনকে খাওয়ানো হচ্ছে, রুমনকেও খেতে দেওয়া হলো। খাওয়া শেষ হলেই বিয়ের কাজ শুরু হবে। বিয়ের পরে আর দেরি করবে না বলে আগেই খাওয়ার ঝামেলাটা শেষ করে দিতে চায় সকলে।
আমাকে রুম থেকে বের করে বউয়ের আসনে বসানো হলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই বিয়ের কাজ শুরু হবে। বিয়ের সবকিছু রেডি। মনে মনে ভাবছি প্রীতম সাহেব আর পরী এখনো আসলো না, তাহলে কি সত্যি আসবে না। কল করে খোঁজও নিতে পারছি না আর, সবাই আছে এর মধ্যে মোবাইল হাতে ধরাই বারন। ভাবতে ভাবতেই মাম্মাম বলে চিৎকার করে উঠলো পরী, আমি মাম্মাম ডাক শুনেই তাকিয়ে দেখি পরী আর প্রীতম সাহেব। পরী প্রীতম সাহেবের কোল থেকে নেমেই দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো। আমিও পরীকে জরিয়ে ধরলাম, কি যে শান্তি পেলাম এতক্ষনে। বললাম এত দেরি করলে কেন আসতে, মাম্মাম সেই কখন থেকে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।
পরী বললো মাম্মাম আমিও তো কখন থেকে লেদি হয়ে বসে আছি পাপাই তো দেরি করলো। তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো মাম্মাম তোমাকে তো বউ বউ মনে হচ্ছে, কি সুন্দল দেখতে, মাম্মাম তোমাকে খুব সুন্দল দেখতে। আমি হেসে উঠে প্রীতম সাহেবের দিকে তাকালাম, ভদ্রলোক দেখি তাকিয়ে আছে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে। আমি তাকাতেই বললেন খুব সুন্দর লাগছে আপনাকে বউয়ের সাজে। আমি বললাম তাই? তখন উনি বললেন হ্যা সত্যি তাই।
এদিকে অনেক মহিলার ভীড় জমা হয়ে গেছে আমাদের ঘিরে, চারিদিকে সবাই কানাকানি করছে, তাকিয়ে দেখেই চমকে গেলাম এত মানুষ কেন? প্রীতম সাহেব এত মানুষ দেখে বললেন পরীকে দিন আমি ওকে নিয়ে এই দিকে একটু ঘুরে আসি। আমি বললাম আপনি প্লিজ আগে খাবারের জায়গায় গিয়ে একটু খেয়ে আসুন, বুঝতেই পারছেন আজ আমি আপনাকে নিজে আপ্যায়ন করতে পারবো না। আর কাউকে বলবো তেমন মানুষ ও দেখছি না। প্লিজ কিছু মনে করবেন না বিয়ে বাড়ি বুঝতেই পারছেন।
প্রীতম সাহেব আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন প্লিজ আপনাকে এতটা ব্যস্ত হতে হবে না, আমি জানি বিয়ে বাড়ি কেমন হয় তাই আমার খাওয়া নিয়ে চিন্তা করবেন না, আমি সময় মত ঠিক খেয়ে নিবো বলেই পরীকে বললো আসো পাপা আমরা বিয়ে বাড়িটা ঘুরে দেখি, নতুন বর দেখবে না চলো বর দেখে আসি।
পরী বললো না পাপা আমি মাম্মামের কাছেই থাকবো তুমি যাও আমি কিছু দেখবো না। আমি মাম্মামের কোলেই বসে থাকবো। প্রীতম সাহেব আমাকে বললেন প্লিজ ওকে একটু বুঝিয়ে আমার কাছে দিন নয়তো এখনই বিয়ে পড়াতে আসলে ঝামেলা হবে, এই জন্যই আমি ওকে নিয়ে আসতে চাইনি। আমি বললাম কোন ঝামেলা হবে না আমি ওকে কোলে নিয়েই বিয়ে করতে পারবো। আপনি চিন্তা করবেন না যান। তারপরেও প্রীতম সাহেব অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমাকে বললো আপনি তাহলে ওকে রাখুন আমি রুমন সাহেবের সাথে দেখা করে আসি নতুন বরকে কেমন লাগছে দেখি, বলেই চলে গেলেন।
এদিকে মহিলাদের কৌতুহল এতক্ষনে বাঁধ ভেঙ্গে কানাকানি থেকে আলোচনায় চলে এসেছে, কয়েকজন পরীকে বললো কি গো বাবু নতুন বউ তোমার কে হয়? উনি তোমার কে হয়? যার কোলে বসে আছো সে তোমার কে হয়? যাকে মাম্মাম বলছো সে তোমার সত্যি মাম্মাম নাকি? এরকম নানা প্রশ্ন করেই চলেছে, এসব প্রশ্ন শুনে আমার মেজাজটা খারাপ হতে লাগলো আবার ভয়ও কাজ করলো মনের মধ্যে। পরী সবার কথার উত্তর দিলো হ্যা এটা তো আমার মাম্মাম হয়, আমার সত্যি মাম্মাম, এটা শুধু আমার মিষ্টি মাম্মাম বলেই জরিয়ে ধরলো আমাকে।
মহিলারা একে ওপরের মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি শুরু করলো। তারপর সেখান থেকে ফিসফিস করতে করতে একেকজন একেক দিকে চলে গেলো। আমি পরীকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে আদর করতে লাগলাম।
কিছুক্ষনের মধ্যে রুমনের বাড়ির মহিলারা কয়েকজন আমার কাছে এসে বললো এই বাচ্চাটা কে হয় তোমার? আমি কি বলবো বুঝতে পারলাম না, কিছু বলার আগেই একজন পরীকে জিজ্ঞাসা করলো এই যে বাবু তোমার নাম কি? পরী বললো আমার নাম পরী। তখন বললো তোমার বাবা মা কই? তখন পরী বললো এই তো আমার মাম্মাম দেখতে পাও না।
কথাটা শুনে সবাই হা হয়ে গেলো। আরেকজন বললো তোমার বাবা কই তাহলে? পরী বললো পাপা ঐদিকে গেছে। আমি ওদের মুখের ভাব দেখেই বুঝলাম ওরা এটা নিয়ে অন্যরকম ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। তখন আমি শুধু বললাম ছোট মানুষ তো তেমন কিছু বোঝে না, কি বলতে কি বলছে আপনারা কিছু মনে করবেন না প্লিজ। ও আসলে আমাকে মাম্মাম বলেই ডাকে।
আমার কথা শুনে কয়েকটা মহিলা বললো বুঝতে পেরেছি আমরা সব, ছোট মানুষ বলেই বড়দের মত মিথ্যে বলতে পারে না, সহজ সরল ভাবে সত্যি কথা গুলো বলে দেয়। আমি বললাম মানে? কি বোঝাতে চাইছেন?
তখন একজন বললো কিছু বোঝাতে চাই না বলেই সকলকে বললো এই চল আমরা যাই এখন। বলেই সবাই চলে গেলো।
এদিকে সেই কখন আমাকে বউয়ের আসনে এনে বসানো হলো তখনই বিয়ে পড়াবে বলে কিন্তু এত সময় হয়ে যাচ্ছে কারো কোন খবর নাই, কতক্ষন এভাবে বসে থাকতে ইচ্ছে হয়। কি হলো এত দেরি কেন করছে বিরক্ত লাগছে আমার। একজনকে বললাম একটু দেখে আয় তো সবাই কি করছে? আর কত দেরি হবে বিয়ে পড়াতে শুনে আয়। এভাবে বসে থেকে আমার মাজা পিঠ ধরে গেছে আর পারছিনা।
ও খোঁজ নিতে চলে গেলো কিন্তু অনেক সময় হলেও আর ফিরলো না। আমার রাগ টা বেড়েই যাচ্ছে কেউ কোন কাজের নয় সবাই শুধু আছে রংতামাশায় ব্যস্ত। আরেকজনকে বললাম তুই গিয়ে দেখে আয় তো, আবার তুই ও গিয়ে যেন হারিয়ে যাসনা? এখনই ফিরে আসবি বলে দিলাম।
ও গিয়ে একটু পরই ফিরে এসে বললো কি যেন ঝামেলা হয়েছে সবাই বসে আলোচনা করছে। একটু দেরি হবে বিয়ে পড়াতে। জিজ্ঞাসা করলাম কি নিয়ে ঝামেলা শুনেছিস? বললো না শুনিনি, বিয়ে বাড়িতে এমন ঝামেলা একটু হয়ই, এটা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না। বললাম চিন্তা করবো না কি নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে? তোরাও হয়েছিস কোন একটা কাজ যদি ঠিকমত তোদের দিয়ে হয়, গেলি তাহলে শুনে আসবি না কি নিয়ে ঝামেলা? আবার যা একটু চেষ্টা কর জানতে পারিস কিনা কিছু।
আমার অস্থিরতা বাড়েই চলেছে কি হচ্ছে বাহিরে? কেউ তো আমাকে কিছু বলছেও না। বাড়ির লোকজন সব কোথায় যে হারিয়ে গেছে একটা বার আমার কাছে আসারও প্রয়োজন মনে করছে না। হঠাৎ একজন এসে বললো পরীকে বাহিরে একটু ডাকছে সবাই। আমি বললাম পরীকে কেন ডাকছে? বললো জানিনা কেন। কিন্তু পরী কিছুতেই গেলো না কারো কাছে। আমাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
আমার মনে অজানা ভয়টা মাথাচারা দিয়ে উঠছে, আচ্ছা ওরা পরীকে কেন ডাকছে? আর প্রীতম সাহেব সেই কখন গেছে বাহিরে এখনও তো একবারও আসলো না। আমার মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে যেন।
বাহিরের ঝামেলাটা বড় আকার ধরেছে মনে হয় কারন অনেক জোরে জোরে কথা বলছে অনেকেই শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ আম্মা আমার কাছে এসে কান্না করতে লাগলো। আমি আম্মার কান্না দেখে কি হয়েছে মা বলে চিৎকার করে উঠলাম। আম্মা আরো জোরে কেঁদে উঠলো। আমি আম্মাকে অনেক কষ্টে থামিয়ে বললাম আগে বলেন কি হয়েছে বাহিরে? কেন কাঁদছেন?
আম্মা কাঁদতে কাঁদতে বললো পরীকে নিয়ে ঝামেলা হয়েছে, ওরা সবাই বলছে পরী নাকি তোর নিজের মেয়ে, তোর নাকি আগেই বিয়ে হয়েছিলো যেটা আমরা গোপন রেখে চুপ করে ওদের ছেলেকে ফাঁসিয়ে বিয়ে দিতে চাইছি।
আম্মার কথাগুলো শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম, কিছু সময়ের জন্য পাথর হয়ে গেলাম।
আম্মাকে বললাম রুমন কি বলছে? আম্মা বললো রুমন একবার শুধু বললো পরী তোর আসল মেয়ে নয় তোর আগে বিয়ে হয়নি। কিন্তু ওর কথা কেউ বিশ্বাস করছে না, সবাই বলছে ও হয়তো সত্যিটা জানে না নয়তো তোকে বাঁচাতে মিথ্যে বলছে, তুই নাকি ওকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিস তাই ও পাগল হয়ে গেছে তোর প্রেমে। এসব শুনে রুমন আর কিছু বলেনি চুপ করে বসে আছে।
আমি বললাম প্রীতম সাহেব কোথায়? আম্মা বললো প্রীতমও ওখানেই আছে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে কিন্তু কেউ না বুঝে ওকেও নানা রকম ভাবে অপমান করছে। রুমনও অনেক কথা বলেছে প্রীতমকে। রুমনকে বোঝাচ্ছে প্রীতম এখন।
বললাম চলেন আমি বাহিরে যাবো পরীকে নিয়ে। আম্মা বললো বাহিরে গিয়ে তুই কি করবি, উল্টাপাল্টা কিছু যেন বলবি না। তোর বাহিরে যাওয়ার দরকার নেই আমি দেখি রুমনকে তোর কাছে পাঠানো যায় কিনা কাউকে বলে। তুই রুমনের সাথে একা একটু কথা বলে বোঝা।
আমি বললাম না রুমনকে আসতে হবে না আমিই যাবো সবার সামনে। আমি চুরি করিনি যে মুখ লুকিয়ে রাখতে হবে। চলেন বলে পরীকে কোলে নিয়ে উঠে গেলাম।
আমাকে যাওয়া দেখেই প্রীতম সাহেব দৌড়ে এসে বললো আপনি কেন বাহিরে উঠে আসলেন? প্লিজ আপনি ভেতরে যান পরীকে নিয়ে, এদিকটা আমরা সামলে নেবো। আপনার এখানে আসা ঠিক হয়নি, প্লিজ ভেতরে যান।
আমি প্রীতম সাহেব কে থামিয়ে দিয়ে বললাম আমি কি অন্যায় করেছি যে আমাকে নিয়ে বিচার সভা বসবে আর সেখানে আমার থাকা চলবে না? কথা বলা চলবে না? এতক্ষন আপনাকে এরা কি বলেছে, আপনি এদের কি বলেছেন আমি জানি না, এখন আপনি চুপ থাকুন আমি দেখছি। প্রীতম সাহেব আমাকে অনেক অনুরোধ করলো কিছু না বলতে কিন্তু আমি শুনলাম না। বললাম এখানে এতক্ষন কি কথা হয়েছে, কে কি বলেছে, কি বুঝিয়েছে আমি কিছুই জানি না। আপনাদের কার কি জানার আছে প্লিজ আমাকে প্রশ্ন করুন আমি সব উত্তর দেবো।
অনেকেই বলতে লাগলো তুমি কি বলবা আমরা ছোট বাচ্চাটার মুখে শুনতে চাই। একজন পরীকে বললো ওটা তোমার কে হয় বাবা? পরী এত মানুষ আর গেঞ্জাম দেখে ভয় পেয়ে আমাকে শক্ত করে ধরে আছে। আমি বললাম ভয় নাই মা আমি তো আছি। তখন পরী একটু সাহস পেলো। আবারও প্রশ্ন করলো এটা তোমার কে হয়? পরী তখন বললো আমার মাম্মাম হয়।
ব্যস্ হয়ে গেছে। সবাই ক্লিয়ার হলো বাচ্চা মানুষ কখনো মিথ্যে বলতে পারে না। রুমন এসে আমাকে বকতে লাগলো, বললো তোমার সাধ মিটেছে তো এবার? সকলের সামনে এভাবে আমাকে অপমান করলে? আমি বারবার বলেছিলাম এই ঝামেলাটা কাঁধ থেকে সরিয়ে ফেলো কিন্তু আমার কোন কথা শুনলে না এখন ঠেলা সামলাও। কি বলবে সবাইকে? কয়জনের মুখ বন্ধ রাখবে এখন?
আর এই যে প্রীতম বাবু! আপনি নিশ্চয় আজ খুব খুশি হয়েছেন? আমাকে উল্টো অপমান করতে পারলেন, আপনার সাধ মিটেছে তো? আপনাকে আমি কতবার বলেছিলাম এই সমস্যা গুলো হতে পারে কিন্তু আপনি কথা দিয়েও সে কথা রাখলেন না। এখন তো হ্যাপি?
প্রীতম সাহেব রুমনকে কিছু বলার জন্য দেখুন বলতেই রুমন তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো প্লিজ আপনি আর কোন কথাই বলবেন না। অনেক দেখেছি আর দেখতে চাই না, দয়া করে এখান থেকে আপনার এই মেয়েকে নিয়ে এখনই চলে যান, আমাদের একটু উদ্ধার করুন, অনেক বুঝিয়েছেন এখন একটু ক্ষমা করুন।
সবাই নানা রকম বাজে কথা বলতে শুরু করলো প্রীতম সাহেবকে। প্রীতম সাহেব কোন উত্তর না দিয়ে আমার কোল থেকে পরীকে জোর করে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছেন, পরী মাম্মাম বলে কান্না শুরু করলো, আমি মাম্মামের কাছে যাবো পাপা আমি মাম্মামের কাছে থাকবো বলছে আর চিৎকার করছে। কিন্তু প্রীতম সাহেব কোন দিকে কান না দিয়ে পরীকে নিয়ে চলে গেলো।
আমি ওদের চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে পাথরের মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
#চলবে..
♥স্বপ্না’স খেয়াল♥

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.