মায়ার বাঁধন ৮ম পর্ব

মায়ার বাঁধন

৮ম-পর্ব

আমি পরীকে টেডিবিয়ার আর চকোলেট গুলো দিয়ে বললাম নাও মা এগুলো মাম্মাম তোমার জন্য আনবো বলেছিলাম না? দেখো এনেছি, আমার পরীর রানীর কি এগুলো পছন্দ হলো নাকি হয়নি?
#পরী- মাম্মাম খুব পছন্দ হয়েছে, খুব সুন্দর। থ্যাংকিউ মাম্মাম।
তারপর আমি পরীকে খাইয়ে দিলাম। ডাক্তার এসে পরীকে দেখে বললেন এই তো পরী সুস্থ হয়ে গেছে, আপনারা চাইলে বিকেলে রিলিজ নিতে পারবেন। আর হ্যা পরীর দিকে একটু খেয়াল রাখবেন বাচ্চা মানুষ তো এমন কোন আঘাত যেন আর না পায়, একটু বেশি বেশি যত্ন করবেন কিছুদিন বলে ডাক্তার ও জিএম স্যার দুজনই চলে গেলেন।
সারাদিন পরীর সাথে খুব ভালো সময় কাটলো। পরীকে দেখে আর মনেই হচ্ছে না এতটা অসুস্থ ছিলো। পরীর বাবাও খুবই খুশি মেয়েকে এত হাসিখুশি সুস্থ দেখে। কিন্তু বিকেলে পরীর সাথে ওদের বাসায় যাওয়া তো আমার সম্ভব নয়, পরীকে তো বোঝানোও মুশকিল হবে, ও নিশ্চয় আমাকে ছাড়বে না তাহলে উপায়? নানা রকম চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাবলাম প্রীতম সাহেবকেই চুপ করে বিষয়টা বলি দেখি উনি কি উপায় বলেন।
#আমি- পরী তো বিকেলে আবার আমাকে নিয়ে ঝামেলা করবে কি করা হবে কিছু কি ভেবেছেন?
#প্রীতম সাহেব- আমিও সেই চিন্তাই করছি এতক্ষন, কিছুই তো মাথায় আসছে না। কি করা যায় বলুন তো?
#আমি- কি করতে বলবো জানি না তবে বুঝতেই তো পারছেন আমার দ্বারা সম্ভব নয় আপনার বাসায় যাওয়া।
#প্রীতম সাহেব- আমি সেটা জানি তাই এই অন্যায় আবদারটা কখনোই আপনার কাছে করবো না। এখন চিন্তা পরীকে কি করে বোঝাই। সবই তো দেখলেন আপনি না আসলে আমার মেয়েটার যে কি হতো আল্লাহই জানে। এখনই আবার আপনাকে চলে যাওয়া দেখলে জানিনা কি হয়।
#আমি- আচ্ছা মেয়েটা মায়ের জন্য এতটা কষ্ট পায় তাহলে আপনি আরেকটা বিয়ে করেন না কেন? বিয়ে করলেই তো ও একটা মা পায়। বাচ্চাদের জন্য মায়ের ভালোবাসা খুব দরকার।
#প্রীতম সাহেব- হ্যা সেটা আমিও বুঝি কিন্তু ভয় হয় যদি সে আমার মেয়েটাকে নিজের বলে মেনে নিতে না পারে, তাহলে আমার মেয়েটা সারাজীবন কষ্ট পাবে, জীবনটাই হয়তো নষ্ট হয়ে যাবে সেই ভয়ে আমি বিয়েতে রাজি হইনা। কিন্তু পরী যে ভেতরে ভেতরে একটা মায়ের জন্য এতটা কষ্ট পেতো তা কখনো বুঝতে পারিনি।
#আমি- শুনুন সব মেয়েই খারাপ নয়, আপনি ভালো দেখে এমন একটা মেয়ে বিয়ে করুন যে আপনার পরীকে নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে রাজি, নিশ্চয় এমন একটা মেয়ে পাবেন যে আপনার পরীর দায়িত্ব নিবে। এভাবে আপনার নিজেরও তো অনেক কষ্ট হয় ছেলে হয়ে সব দিক সামলাতে।
#প্রীতম সাহেব- হ্যা তা তো হয়ই কিন্তু আমার কাছে সবকিছুর উর্ধ্বে আমার পরী। ওর জন্য আমি শত কষ্ট সহ্য করতেও রাজি।
#আমি- বুঝলাম তবে এবার পরীর কষ্ট দুর করার জন্যই আপনাকে বিয়ে করা উচিত।
#প্রীতম সাহেব- আপনার খুব ঝামেলা মনে হচ্ছে তাই না? হওয়াটাই স্বাভাবিক, অন্য কেউ হলে আপনি যতটুকু করলেন তাও করতো না তার জন্য আমি কি বলে কৃতজ্ঞতা জানাবো আপনাকে সেই ভাষা জানা নেই।
#আমি- আরে আমি আমার ঝামেলার জন্য বলছি না, আর আমি তো এভাবে রোজ আসতেও পারবো না। আমার পরিবার থেকে নিশ্চয় এটা এলাও করবে না আর আমাদের সমাজই বা কি বলবে? একদিন দুদিন দেখার পরই সমাজে বাঁজে আলোচনা শুরু হবে আমাদের নিয়ে। আমি বা আপনি কেউই নিশ্চয় এসব নোংরা আলোচনার মধ্যে পড়তে চাইবো না।
#প্রীতম সাহেব- নিশ্চয়। যাই হোক আমি এটা নিয়ে পড়ে ভেবে দেখবো এখন আপনি ভাবুন কি করে যাবেন পরীকে রেখে।
#আমি- আচ্ছা দেখি কোন উপায় পাই কিনা বলেই পরীকে বললাম পরী মা তুমি জানতে চাইলে না তো মাম্মাম কেন আসতে পারেনি দুদিন তোমার কাছে? তোমার কি জানতে ইচ্ছে হয়নি?
#পরী- হ্যা মাম্মাম জানতে ইচ্ছে হয়েছে তো, কেন আসোনি মাম্মাম? তুমি জানো আমি তোমার জন্য কত ওয়েত করেছি?
#আমি- আমি জানি তো আমার পরী সোনা আমার জন্য ওয়েত করে বসে আছে কিন্তু কি করবো বলো আমাকে যে দুষ্টু লোক গুলো কিছুতেই আসতে দিতে চায়নি তোমার কাছে।
#পরী- কোন দুস্তু লোক মাম্মাম? ওদেরকে মেরে তুমি চলে আসতে পারনি? পাপাকে বলতে তাহলে পাপা ওদের মেরে তোমাকে নিয়ে আসতো?
#আমি- না মাম্মাম ওরা তো খুব দুষ্টু, পাপা গেলে পাপাকেও মেরে ফেলতো। জানো কি হয়েছিলো? আমি যখন তোমার কাছে থেকে গিয়ে তোমার জন্য চকলেট আর টেডিবিয়ার কিনে আসছিলাম, ওমনি কয়েকজন ইয়া বড় কালো কাপড় পড়া রাক্ষসের মত দুষ্টু লোক আমাকে ধরে চোখ বেঁধে ওদের বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখলো। আমি কত কাঁন্নাকাটি করে বললাম আমাকে ছেড়ে দাও আমার জন্য আমার পরী অপেক্ষা করছে। কিন্তু তারা কোন কথায় শুনলো না। আমাকে খুব কষ্ট দিলো, খেতে পর্যন্ত দেয়নি। কি বলেছে জানো?
#পরী- কি বলেছে মাম্মাম?
#আমি- বলেছে তুই যদি আমাদের কথা না শুনিস তাহলে তোকে আমরা মেরে ফেলবো, সাথে তোর পরীর বাবা আর পরীকেও। তখন আমি ভয়ে আর কিছু বলিনি।
#পরী- মাম্মাম তাহলে আজ কি ওরা তোমাকে ছেড়ে দিলো?
#আমি- না মা, আমি ওদের হাতে পায়ে ধরে খুব কান্না করে বলেছি যে তোমাদের সব কথা শুনবো আমি শুধু একটিবার আমার পরীর সেনার কাছে যেতে দাও, আমি পরীকে দেখে এই জিনিসগুলো দিয়েই আবার চলে আসবো তোমাদের কাছে। তখন ওরা বলেছে যেতে দিতে পারি তবে একটা শর্ত আছে।
#পরী- কি শর্ত মাম্মাম?
#আমি- বলেছে যদি তুই তোর মেয়েকে দেখে সাথে সাথে আবার ফিরে না আসিস, যদি কোন চালাকি করে পালানোর চেষ্টা করিস তাহলে আমরা তোকে ধরে এনে সাথে সাথে মেরে ফেলবো, আর তোর সাথে তোর পরীর পাপাকেও ধরে আনবো। আর যদি আমাদের কথা মত চলিস আর তোর মেয়েকে দেখে ওমনি চলে আসিস তাহলে আমরা তোকে কিছু বলবো না, আর মাঝে মাঝে তোর মেয়ের কাছে যেতেও দিবো একটু দেখা করার জন্য।
#পরী- মাম্মাম ওরা তো খুব দুস্তু, তোমাকে আর পাপাকে মেরে ফেলবে বলেছে? আমি ওদেরকে মেরে পুলিচে দিবো। তখন আর তোমাদের মেরে ফেলতে পারবে না।
#আমি- না মা ওরা খুব খারাপ, পুলিশে বললে ওরা আমাকে আর পাপাকে মেরে ফেলবে। পাপাকে জিজ্ঞাসা করো পাপাও দেখেছে। পাপাই তো ওদেরকে কথা দিয়ে আমাকে নিয়ে আসলো তোমার কাছে।
#পরী- পাপা সত্যি তুমি দেখেছো? তাহলে ওদেরকে ঢিসুম করে মেরে দিলে না কেন? ওরা মাম্মামকে কত কস্ত দিলো।
#প্রীতম সাহেব- হ্যা মা আমি দেখেছি ওরা খুব ভয়ংঙ্কর রাক্ষসের মত। আরেকটু হলে তো আমাকে খেয়েই ফেলতো। আমি ওদেরকে বলেছি আমার পরীটা খুব অসুস্থ তোমরা দয়া করে একটু সময়ের জন্য পরীর মাম্মামকে ছেড়ে দাও, পরীকে দেখেই আবার আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দিবো। তখন ওরা ছেড়ে দিয়ে বলেছে যদি কথা না রাখিস তাহলে এবার ধরে এনে খুব কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলবো।
#পরী- তাহলে কি মাম্মাম আবার চলে যাবে আমাকে ছেড়ে। আমি মাম্মামকে আর কোথাও যেতে দিবো না। বলেই আমাকে জরিয়ে ধরলো।
#আমি- পরী সোনা, মাম্মাম না গেলে ওরা মাম্মামকে মেরে ফেলবে আর কখনো তোমার কাছে আসতে দেবে না, তুমি কি চাও মাম্মাম মরে যাক?
#পরী- না মাম্মাম আমি চাই না।
#আমি- তাহলে মাম্মামকে যেতে দাও আর তুমি পাপার সাথে বাড়ি যাও। বাড়ি গিয়ে যখন ইচ্ছা হবে তখনই মাম্মামের সাথে কথা বলবে কল দিয়ে ওকে। আর মাম্মাম যখনই ওই রাক্ষসদের কাছে থেকে ছাড়া পাবে তখনই এসে পরী রানীকে দেখে যাবে ঠিক আছে। এবার মাম্মামকে যেতে দাও মা। তুমি তো আমার লক্ষী পরী সোনা। মাম্মামের সব কথা শোন।
পরী মনটা ভার করে ছলছল চোখে বললো ঠিক আছে মাম্মাম যাও কিন্তু তাত্তাড়ি দুষ্টু লোকদের মেরে আবার আমার কাছে চলে এসো, আমি তোমার জন্য ওয়েত করবো। আর একটু পরপরই আমাকে কল দিয়ে জানাবে দুষ্টু লোক গুলো তোমাকে কি বলছে। আচ্ছা।
আমি আচ্ছা যো হুকুম আমার পরী রানী, এবার তাহলে চলো সবাই একসাথেই যাই বলে সবকিছু গুছিয়ে পরীকে আমি কোলে নিয়ে বের হলাম।
#চলবে..
♥স্বপ্না’স খেয়াল♥

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.