দিক পাশ (৪র্থ পর্ব)

কিন্তু ওকে এভাবে দেখবো ভাবিনি।বার বার ওর সামনেই আটকে যাচ্ছি,কেমন জানি নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে ওর সামনে। ওকে ঐদিন ওভাবে বলা ঠিক হয় নি,মস্ত ভুল করে ফেলেছি আমি।ক্ষমা চাওয়া উচিত আমার। যেই ভাবা সেই কাজ, ফেসবুকে ম্যসেজ করলাম- “নিবিতা আছো?” ওপাশে সিন করা হলো আর কোনো রিপ্লাই নেই! আমি আবার ম্যসেজ করলাম, -“ভনিতা না করে আসল কথা বলি, কাল একবার লেক সাইডে আসবে? জরুরী কিছু কনফেস করতে চাই।” -“লল, নো ওয়ে!” -“প্লিজ লাস্ট বার,আর কোনোদিন সামনে আসবো না।” -“ওকে লাস্ট।” আমি থামস আপ দিয়ে বের হয়ে গেলাম। পরদিন ঘুম থেকে উঠলাম বেশ বেলা করে,বিকেলে রওনা হলাম লেক সাইডে। খুব অস্থির লাগছে, জীবনে সরি আমি বলতে গেলে কাউকেই বলিনি কিন্তু এ মেয়েটার অতীত এত বেশী ভাবাচ্ছে, না বলে আমিও শাস্তি পাচ্ছি না। গিয়ে দেখি ও হলুদ রঙ্গের থ্রী পিছ পরে বেঞ্চিতে বসে আছে। -“কেমন আছ নিবিতা?” -“জ্বী, ভালো। আপনি?” -“হুম। তুমি আমাকে আপনি বলছো কেনো আগে তো বলতে না!?” -“(হালকা হাসি দিয়ে) আগের দিক পাশ ছিলো অন্যরকম, এখন সময় বদলেছে।” -“হুম, তাইতো তুমি এভাবে বদলে গেছো! যাই হোক, তুমিই ডাক সমস্যা নেই।” -“আমি যাকে তুমি ডাকতাম সে অন্য কেও ছিলো, এখন এসব আশা করে লাভ নেই। বলুন কি বলতে ডেকেছেন?” -“দেখো, একটা সময় আমি খুব ডানপিটে ছিলাম সেটা তো জানোই।আর আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি তুমি আমায় নিয়ে ওভাবে ভাবতে, আর তখন কি বলবো বুঝে উঠতে পারিনি। নিবি I am sorry for everything…! ক্ষমা করে দিও প্লিজ।” -“একটা মানুষ প্রত্যেকদিন বিকেলে গেইটের সামনে দাড়িয়ে থাকে, দুপুরে বাইরে খেয়ে পেট খারাপ করবে ভেবে নিজ হাতে রেঁধে নিয়ে আসে।কলেজ গেইটে ৮-৯ টা পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকা কারো অপেক্ষায়, সারাক্ষণ কারো আশেপাশে থেকে দেখেছেন কখনো? এভাবে কাউকে কোনদিন ট্রিট করেছে ? আপনার সাথের প্রত্যেকটা মানুষ বুঝতে পেরেছিলো শুধু আপনি ছাড়া! একদিন আপনার বন্ধু হৃদয় আপনাকে আমার কথা বলেছিলো আপনি কি বলছিলেন মনে আছে? “এমন গেঁয়ো ভুত আমার সাথে যায় না, আমার জন্য আকাশের পরী লাগবে।” তবুও আপনাকে ভুল বুঝিনি। ওইদিন হয়ত না পেরে ছুটে গিয়েছিলাম, প্রত্যাখ্যান করলেও এতটা কষ্ট লাগতো না। কিন্তু আপনিও ৮-১০ টা লোকের মতোই আমার দূর্বলতা নিয়ে কথা বলেছেন।(কাঁদতে কাঁদতে বলল)” -“নিবি আমি সতিই……” (কথা শেষ না করতেই) -“নিবিতা।আমি দূর্বল নই, এখন হাজার ছেলে আমার পেছনে ঘোরে। আমি এখনো কালো, তবে নিজেকে গোছানো শিখে গেছি।” -“প্লিজ মাফ করে দাও। আমি কোনোদিন কারো কাছে ক্ষমা চাই নি।তোমার কাছে চাইছি।” -“সেটা আপনার ব্যর্থতা আপনি ক্ষমা চাওয়া শিখেন নি।” -“ওকে মানলাম। কানে ধরেছি,সব কিছু ভুলে এবার নতুন করে বন্ধুত্বটা শুরু করি। মন থেকে আমি সরি।প্লিজ…..” -“হুম। ইটস ওকে।” -“যাক মনটা হালকা হলো, চলো একটু চা খাই।” -“আমার যেতে হবে।” -“বন্ধুত্বটা সেলিব্রেট করি চলো প্লিজ।” -“ওকে।” চা খেয়ে বিদায় নিলাম, মনটা খারাপও লাগছে। ও আমার জন্য এত গভীরে ভাবতো, প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকতো! ভাবছি আর বুকের ভেতর কষ্ট অনুভূত হচ্ছিলো।আজ অবধি এতগুলো মেয়ের সঙ্গে চলেছি কেও এতটা করেনি, হয়ত সিরিয়াসলি নেয়ও নি। এমন করে কেও কাউকে আপন করে, আমার ভাবনার বাইরে ছিলো। রাতে বাসায় ঢুকে ফ্রেশ হলাম। সারাক্ষণ নিবিতার কথাগুলো মাথায় ঘুরছে, ফেসবুকে ওকে ম্যসেজ করলাম, -“কি করছো?” -“বই পড়ছি।” -“হুম। খেয়েছো?” -“হ্যাঁ।” এমন টুকটাক কথা হতে ওর সাথে। ওর ছবিগুলো দেখতাম আর মুগ্ধ হতাম। ও আমাকে এতটা ভালোবাসতো ভেবে হয়ত আরো বেশি ভালো লাগতে লাগলো ওকে।কল্পনায় শুধু ওর ছবি, স্বপ্নে দেখতে লাগলাম ওকে আমার বউ হিসেবে। দারুণ স্বপ্ন! ওর সাথে জীবনটা কত সুন্দর! নিঃস্বার্থে ভালোবাসা একেই বলে, যেখানে স্বর্গীয় সুখ। ম্যসেজ আর ফোনে টুকটাক কথা হতো আমাদের। তেমন সময় করতে পারিনা, তবুও কথা বলতাম। আমি ওকে চাই, আপন করে। বিয়ের কথা কাউকে নিয়ে ভাবিনি, তবে ওকে আমি চাই পুরো অধিকার নিয়েই চাই। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি! এটা সত্যিকারের ভালেবাসা, টাইম পাস নয়। ওকে ভালেবাসতে ওর সর্বক্ষণ সঙ্গের প্রয়োজন নেই, ওর ভাবনাটুকু যথেষ্ট।ভালোবেসেছি প্রথম বার! চলবে….. আগামীকাল শেষ পর্ব দেয়া হবে। সঙ্গে থাকুন ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.