দিক পাশ (২য় পর্ব)

তারাতারি করছি লাভ তো হলোই না উল্টো রাত ৮:৩০। রাফিদ ফোন দিচ্ছে না গেলেও খারাপ লাগে,তাই জড়াজীর্ণ অবস্থাতেই পৌঁছালাম। রাত তখন ৯ টা। বাকিরা পিঠা হজম করে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি আর আমার সন্ধ্যাভোজ। রাফিদ:-“আরে ব্যটা,খা। একদিন ওভারলোড খেলে কিছু হবে না।” আমি:-“তোর কি আমাকে রাতে খাওয়ানোর ইচ্ছা নাই?” রাফিদ:-” ধুর্, আমার বউ আর শালী এত কষ্ট করে দুধ পুলি বানালো আর তুই খাবি না! তুইতো মার খাবি সঙ্গে আমাকেও খাইয়াবি।” আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। নিবিতা বানিয়েছে! আমি রাফিদকে জিজ্ঞেস করলাম- “তোর শালীও আছে নাকি এখানে?” -“হ্যাঁ, পাশের বিল্ডিংটাই ওদের।ডাকবো নাকি ওকে? মনে ধরেছে?!?” -“আরে ধুর শালা, আমার জন্য মেয়েরা আশেপাশে ঘুরত তখনই কাউকে মনে ধরে নাই এখন ধরবে! ইমপসিবল।” -“কেন! বিয়েশাদী কি করবি না জীবনে?” -“যখন করার করবো,কিন্তু কোনো মেয়েকে মনে ধরতে পারবো না, ওয়েস্ট অফ টাইম।” -“মামা, একদিন ফাঁসবি ঠিক। ওইদিন রক্ষা নাই তোমার।মেয়েদের সঙ্গে এত টাংকি মারলা বাট সিরিয়াস হলি না একবারও!” -“কি করবো বল, সবাই টাইম চায় আমি দেই। আমি আবার মেয়েদের মন ভাঙ্গতে পারি না?” -“এসব বাদ দে, একদিন কপালে কষ্ট আছে তোর।?” -“হাহাহা…..জেলাস!?” কথা বলতে বলতে ভাবি খাবার ট্রে হাতে বের হলো, আর তার পেছনে নিবিতা! বাসন্তি রঙ্গের শাড়ি পড়েছে,চুলগুলো ছাড়া একপাশে রাখা।শ্যমবর্ণ মুখে হালকা মেরুন লিপ্সস্টিক,চোখে কাজলের হালকা টানা, কপালে কালো টিপ! ও মাই গড! হুমায়ুন আহমেদ স্যার ওকে দেখলে নতুন গল্প লেখা শুরু করে দিতো ওকে নিয়ে। গলায় কানে কোনো গয়না নেই, হাতে ৪ টা কাঁচের চুড়ি টুংটাং শব্দ করছে। আমি কেন জানি মুগ্ধ হচ্ছি বার বার! ভাবি আমার দিকে এগিয়ে এসে, -“ভাই ওটা থাক, রাতের খাবারটা খেয়ে নেন। ওটা আপনাকে পারসেল করে দিবো নে।” আমার ধ্যাণ ভাঙলো, আমি ভাবির দিকে তাকিয়ে বললাম, -“যাক বাঁচা গেলো।” সবাই খাবার টেবিলে জমপেশ আড্ডা চলছিলো,আমার চোখ নিবিতাকে ফলো করছিলো। সবাইকে সার্ভ করছিলো, আমাকে রাইস সার্ভ করতে সামনে এগিয়ে এলো। ওকে খুব কাছ থেকে দেখছিলাম। চোখদুটো নামিয়ে সার্ভ করছিলো আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম ওর চোখদুটো,কতটা মায়াবী! ও ঠাস্ করে চামচটা রাখলো আর আমার দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকালো! আমি মুচকি হাসি দিতেই চলে গেলো। আড্ডার সঙ্গে খাওয়া দাওয়া শেষ হলো। এখন আমাকে গান গাইতে হবে সকলের বায়না! গিটারও যোগার করে রেখেছে। নিবিতা ঘর থেকে আর বের হয় নি। আমি গান ধরলাম,সবাই মন দিয়ে শুনছিলো। হঠাৎ ঢং…তার ছিড়ে গেলো! রাফিদ হতাশ চোখে তাকিয়ে, -“শালীকার গিটার ? কি করলি!” আমিও থ হয়ে গেলাম! আমার হাতে এত তার ছিড়ে না কিন্তু ইদানিং ছিড়ছে! মনে মনে হতাশ হলাম। এমনিই নিবিতা আমার উপর ক্ষেপা,আবার ওর গিটারের তার ছিড়লাম! হায় আল্লাহ্! মন খারাপ করে আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরলাম।মনটা খারাপ, কি যে হচ্ছে আমার সঙ্গে! ফ্রেশ হয়ে ফেবুতে লগইন করলাম। নিবিতার স্ট্যটাস চোখে পড়ল, “ফিলিংস্যড সখের কিছু একটা দাগ পরলেও কষ্ট লাগে।” আমি ওকে সঙ্গে সঙ্গে ম্যসেজ করলাম, -“I am sorry…!” ও শুধু সিন করলো রিপ্লাই দিলো না। কিছুক্ষণ পর আবার ম্যসেজ করলাম, -“ইচ্ছে করে ছিড়িনি তার, প্লিজ মাফ করো।” ওপাশ থেকে থাম্বস আপ ইমো দিয়ে অফলাইন হয়ে গেলো ও।পরদিন সকালে গিটার তার কিনে ওর বাসায় গেলাম, দড়জা খুলে ও খানিকটা হতবাক! -“আপনি!!!!?” -“হুম, তার এনেছি। গিটার দাও ফিক্স করে দিচ্ছি।” -“আরে আমি কি বলেছি আপনাকে তার কিনে দিতে? ” -“বলতে হবে কেন! ফিলিং স্যড স্ট্যটাস দেখলে বুঝা যায় ?” -“আপনি বেশি বুঝেন। চলে যান আমি ঠিক করিয়ে নিবো।” -” উহু, আমি ঠিক করেই যাবো।” আমি ভিতরে ঢুকে গেলাম রীতিমতো জোর করেই। চলবে….

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.