হুমকি প্রথম পর্ব

Share On Social

আমার চোখের সামনেই লাশটাকে কেটে ৯০ টুকরো করা হয়েছিলো। আমি মুখ বাধা অবস্থায়ই প্রচন্ড ভয়ে জমে গেছিলাম। দেখে যাওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিলো না। আমি এতটা বাকরূদ্ধ হয়ে গেছিলাম যে হঠাৎ কেউ দেখলে ভাবতো আমি বোধয় বসা অবস্থায়ই মরে গেছি। না কাঁদতে পারছিলাম, না চিৎকার করতে। গত ২৩ দিন আমি একটা বদ্ধ অন্ধকার ঘরে কাটিয়েছি। ঐ কটা দিনের কথা আমি সারাজীবন মনে রাখবো। প্রতিটা দিন আমি পাগলের মত চেয়েছিলাম এক ঝলক সূর্যের আলো দেখতে। আমার মুখ চোখ একটা মোটা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা ছিলো। হাত দুটোতে এখনো জমাট বাধা রক্ত স্পষ্টভাবে ফুটে আছে। প্রচন্ড ক্ষুধার কষ্ট আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিলো, এই বন্ধ ঘরের বাইরেও আরেকটা দুনিয়া আছে। আমি সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকতাম এক প্লেট ভাতের জন্য, এক গ্লাস পানির জন্য। শুধু এটুকুই চাইতাম অন্তত সবশেষে আমার প্রাণটুকু যেন অবশিষ্ট থাকে। আমার ডান হাতের একটা আঙ্গুল নেই। ওরা কেটে ফেলেছিলো। আমি এতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম যে চিৎকার করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলাম। যেদিন ওরা বলেছিলো আমার জন্য সারপ্রাইজ আছে, আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। আমার চোখের কাপড় খুলে দেয়ার পর আমার সবথেকে প্রিয় মানুষটাকে দেখে আমি একটা চিৎকার দিয়েছিলাম। আমি সব কষ্টের বিনিময়ে হলেও এই মানুষটার কোন ক্ষতিই মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম না কোনদিন। রুদ্ভাসকে ওরা রক্তাক্ত অবস্থায়ই নিয়ে এসেছিলো। আমি প্রচন্ড ভাবে চেষ্টা করছিলাম হাতের বাঁধনটা খুলে ফেলতে। ওকে একটু স্পর্শ করতে। ও প্রায় সেন্সলেস অবস্থায় ছিল। আমার সামনে এনে বসানোর পরেও ওর কোনো হুঁশ ছিলো না। আমি দেখেছিলাম ওর মাথা থেকে রক্ত পরছিলো। চোখের পাশে, গালেও আঘাতের কারনে রক্ত বের হয়ে গেছিলো। ওর ঠোঁটদুটো থেকে রক্ত গড়িয়ে পরছিলো। আমার মনে হয়েছিলো কেউ আমার হৃৎপিন্ড ধরে টান দিয়েছে। আমি সেদিন ওকে ধরে কাঁদতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার চোখদুটো ঝাপসা হয়নি। আমি কাঁদতে ভুলে গিয়েছিলাম। হালকা আলোতে ওর রক্তাক্ত চেহারাটা আমার মনে এখনও দাগ কেটে আছে। আমি যখন খুব করে হাত ছাড়ানো আর কথা বলার চেষ্টা করছিলাম তখনই দেখলাম বন্ধ ঘরের দরজাটা খুলে গেল। রুদ্ভাসের পেছনে দুজন ব্যক্তি দাড়ানো। আমি শক্তিহীন হলেও সম্পূর্ণটা খেয়াল করতে পেরেছিলাম। আমাকে উদ্দেশ্য করে তারা কিছু বলেছিলো। কথাগুলো ছিলো এরকম- “আমরা ভদ্রভাবেই তোমার ভাইকে আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে ভদ্রতা মানেনি। উল্টো আমাদের লোকের গায়েই হাত তুলেছে।” রুদ্ভাসের মাথার চুল ধরে একটা ঝাঁকি দিয়ে কথাগুলো বলছিলো ওদের একজন। আর রুদ্ভাস ব্যাথায় গোঙ্গাচ্ছিলো। আমার কলিজার টুকরা ছোট ভাইটাকে আমি আমার সন্তানের মতোই ভালোবাসতাম। আমি পড়াশোনা বেশিদূর করতে না পারলেও রুদ্ভাসকে আমি অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এমন একটা দিন আসবে।
.
Facebook Post Link

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.