সন্দেহ ১ম পর্ব – Sabiha Rahman Susmita

Share On Social

তখনো আমি শুভ্র কে সন্দেহ করিনি,যখন নীলু আমায় ফোন করে বলেছিল-
-নীরা আপা,তুই অনেক লাকি রে।দুলাভাই তো জানে না ফেইসবুকে আমার পেইজ আছে।না জেনেই আমার পেইজে তোর জন্য ২টা শাড়ি অর্ডার করেছে।খুবই সুন্দর।তোকে ছবি পাঠাবো?
-কি বলিস?আমার জন্মদিন তো দেরী আছে,আর এনিরভার্সারি ও গেলো কিছুদিন আগে।হঠাত আবার শাড়ি কেন?
-আরে কপাল করে এসেছিস আরকি।আচ্ছা,তোকে ছবিগুলো দিচ্ছি।
নীলু আমাকে ছবিগুলা পাঠানোর পর দেখলাম ২ টাই পাতলা নেটের পার্টি শাড়ি যেগুলা আমি পরি না।তারপরও কিছু আর ভাবলাম না।অপেক্ষা করতে লাগলাম কবে সে সারপ্রাইজ দিবে।
তারপর দিন গিয়ে মাস গড়ালে ভুলেই গিয়েছিলাম শাড়ির কথা।
হঠাত নীলু আবার ফোন করল,
-আপা,দুলাভাই আজকে খুব সুন্দর দামী একটা নেকপিস অর্ডার করেছে।আর আমার পেইজের শাড়ি দুটো কেমন লাগলো বললি না তো?
তখন মনে পরল,শুভ্র তো আমাকে কোনো শাড়ি ই দেয়নি।
আমি ভালো হ্যাঁ,হুম বলে ফোন রেখে দিলাম।
ভাবতে লাগলাম শুভ্র শাড়ি,নেকপিস এসব কাকে দিচ্ছে?আমায় তো দেয়নি,কিছু বলেও নি।
রাতে শুভ্র বাসায় আসার পর একসাথে ডিনার শেষ করেই সে ল্যাপটপ নিয়ে বসে অফিসের কাজ শেষ করতে।
আমি আমার বানানো নতুন ডেজার্ট নিয়ে এসে পাশে বসে ২জন খাই,আর গল্প করি।। গল্প বললে ভুল হবে,আমি একাই বকবক করি,শুভ্র ল্যাপটপে কাজ করে আর আমি খাইয়ে দিই।ইদানিং খুব ব্যস্ত হয়ে গেছে সে কাজে।
-নীরা,ঘুমিয়ে পরো,যাও। রাত জেগো না আমার জন্য।আমার কাজ শেষ করে ঘুমাতে দেরী হবে।ও আচ্ছা,আমার মোবাইল টা চার্জ থেকে একটু দিয়ে যেয়ো তো।
বেডরুমে গেলাম মোবাইল আনতে,মোবাইল টা হাতে নিতেই একটা টেক্সট এলো অপরিচিত নাম্বার থেকে-
“লেইট নাইট এ ভিডিও কলে এসো,একা একা লাগছে।”
ম্যাসেজ টা পড়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো,ধপ্পাস করে খাটে বসে গেলাম।কি হচ্ছে এসব বুঝতে পারছিলাম না।মোবাইলের স্ক্রিন টা লক করে মোবাইল টা নিয়ে শুভ্রের কাছে দিতেই সে মোবাইল টা পাশে রেখে আমার হাত ধরে টেনে আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে বলল-যাও ঘুমিয়ে পরো লক্ষীটি। গুড নাইট।
চলে যাচ্ছিলাম,হঠাত পিছন থেকে শুভ্র ডাক দিল,
নীরা,নেক্সট উইকেন্ড পর এক্সট্রা ২ দিন বন্ধ আছে।আর উইকেন্ড ২ দিন।মোট ৪দিন,কোথাও ঘুরতে যাবে?চাইলে মালদ্বীপে যেতে পারি প্যাকেজে,কি বলো?
হুম,যাওয়া যায়।দেখো সব ঠিকঠাক হলে বুকিং দাও।
আচ্ছা,যাও,কালকে রাতে এ ব্যাপারে কথা হবে।গুড নাইট।
সারারাত ঘুমাতে পারি নি,কান্না করে করে বালিশ ভিজিয়েছি।হঠাত ই বুঝলাম শুভ্র রুমে আসছে,তখনি ওর মোবাইলের রিংটোন টা বেজে উঠলো সাথে সাথেই থেমে গেলো আওয়াজ।শুভ্র পাশে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলো। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই।কত ভালবাসি এই শুভ্র কে আমি,আর শুভ্র যে আমায় কত ভালবাসে এতদিন বড়াই করে বলেছি সবাইকে।সবাই আমাদের ভালবাসা দেখে হিংসা করত।
তবে হ্যাঁ,আমাদের বিয়ের ৫বছর হলেও কোনো বাচ্চাকাচ্চা নেই আমাদের।সমস্যা টা আসলে আমাদের কারোর ই না,আবার দুইজনের ই অল্প বিস্তর সমস্যা আছে।কিন্তু বাচ্চা হবে না এমন কথা কোনো ডাক্তার ই বলেন নি।
বাচ্চা হচ্ছে না বলে শুভ্রের মনে কখনো আফসোস দেখিনি,আমি মন খারাপ করলেই আমাকে ঘুরতে নিয়ে যায় দেশের ভিতরে,বাইরে।অনেক জায়গায় ঘুরেছি আমরা একসাথে।আমাকে কখনোই মন খারাপ করে থাকতেই দেয় না, সেই শুভ্র কিভাবে অন্য নারীর সাথে সম্পর্কে…. না না,আর কিছু ভাবতে চাই না।আমি একা থাকতে চাই কিছুদিন,কিন্তু এই অবস্থায় শুভ্র কে একা বাসায় রেখে যেতেও কেমন লাগছে।
না,এভাবে ভেঙে পরলে চলবে না,আমি আমার জায়গা ছেড়ে দিব না।ভাবতে ভাবতেই সকাল হয়ে গিয়েছিল।
সকালে শুভ্র অফিসে যাবার আগে বলে গেলো আজ সন্ধ্যায় কিছু গেস্ট নিয়ে আসবে,অফিসের বস ও আসবে কিছু যেন রান্নাবান্না করে রাখি রাতের জন্য আর যেন সুন্দর কোনো শাড়ি পরে রেডি হয়ে থাকি।
সারাদিন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার পর বিকালে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালাম।গায়ের রঙ টা মনে হয় আরেকটু ফর্সা হয়েছে।দেখতে খুব ফর্সা ছিলাম না আমি,উজ্জ্বল শ্যামবর্নের রঙ ই শুভ্রের খুব পছন্দ ছিল।একটু মোটা মোটা লাগছে,চোখের নিচ টা কালো কালো লাগছে।আলমারি থেকে কালো রঙের একটা শাড়ি বের করে পরলাম,চোখে মোটা করে কাজল দিলাম। বিল্ডিং এর নিচেই ফুলের দোকান,দারোয়ান কে দিয়ে বেলী ফুলের মালা এনে হাতে জড়ালাম।
টিং টং কলিং বেল বাজতেই,শাড়ি সামলে,হিজাব ঠিক করে দরজা খুলতে গেলাম।
দরজা খুলে তাকিয়ে সালাম দিব ভেবে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম,এ কি দেখছি আমি!?
#সন্দেহ

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.