মায়ার বাধন ৪র্থ পর্ব

Share On Social

#মায়ার_বাঁধন
৪র্থ-পর্ব
আমি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলাম। তারপর ভদ্রলোক বললেন তাহলে চলুন আর দেরি করা যাবে না এই সুযোগে আপনাকে গাড়ি করে দেই।
আমি কোন উত্তর না দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে ব্যাগটা হাতে নিলাম যেন পরী আর কোলে উঠতে না পারে। পরীর বাবা পরীকে কোলে নিয়ে বের হলো। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি গাড়ির অপেক্ষায়। একটু পর একটা গাড়ি আসলে আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে দিতে ভদ্রলোক বললেন,
“আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম তার জন্য ক্ষমা করবেন আর আপনি আমার মেয়ের জন্য যা করলেন তার জন্য ধন্যবাদটা খুব কম হয়ে যাবে তবুও ধন্যবাদ জানাচ্ছি”।
#আমি- না না এভাবে বলবেন না, ছোট বাচ্চা ভুল করে ফেলেছে, আমার এখন আর কোন খারাপ লাগছে না বরং ভালোই লাগছে পরীর সাথে এমন মজার একটা ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে, জীবনে নতুন একটা অভিজ্ঞতা হলো।
#পরী- মাম্মাম তুমি কিন্তু যখুনি যাবে যখুনি আসবে, আমি তোমার জন্য ওয়েত করবো, তুমি আসলে তবেই আমি খাবো, তুমি আমাকে খাইয়ে দেবে।
#আমি- ঠিক আছে মাম্মাম আমি যখুনি যাবো যখুনি আসবো তুমি চিন্তা করো না।
#পরী- পমিচ।
#আমি- পমিচ।
#পরী- আমার লক্ষী মাম্মাম, উম্মাআ..
বলে আমাকে চুমু খেলো বাবার কোল থেকেই, আমিও পরীকে আদর করে একটা চুমু দিয়ে গাড়িতে উঠে গেলাম।
মেয়েটাকে শেষ বারের মত একবার কোলে নিয়ে আদর করে দেওয়া উচিত ছিলো হয়তো, আমার মনেও হচ্ছিলো কিন্তু ভয়ে নিলাম না কারন কোলে নিলে যদি আবার না নামাতে পারি তাহলেই তো মহা বিপদে পড়ে যাবো, তাই আর কোন ভদ্রতা বা আলগা দয়া দেখাতে গেলাম না।
আমি গাড়িতে উঠে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি পরী আর ওর বাবা তাকিয়ে আছে। পরী বলছে, “মাম্মাম তাত্তাড়ি আসো কিন্তু”। আমি হাত নেরে টাটা দিলাম পরীও টাটা দিলো।
গাড়ি চলছে.. হয়তো মেয়েটা গাড়িটা যতদুর দেখা যাবে ততদুর তাকিয়ে থাকবে।
আমি হাফ ছেড়ে বাচলাম। সারাদিনটা আজ যে ঝামেলায় কাটলো না জানি আজ কার মুখ দেখে উঠেছিলাম।
হঠাৎ আম্মার কল এলো মোবাইলে, রিসিভ করতেই ‘হ্যালো তুই কোথায় এত দেরি কেন হচ্ছে আসতে?’ বললাম একটু দেরি হয়ে গেলো বাসায় এসে সব বলছি, এখন রাখছি বলেই কেটে দিলাম। আমি জানি এখন একটু বললেই শুরু হবে আম্মার নানা প্রশ্ন, এত কথা মোবাইলে বলা যাবে না আর ইচ্ছেও হচ্ছে না তাই বাড়ি গিয়েই সব বলবো ভাবলাম।
আম্মার ফোন রাখতেই আমার আপা ফোন দিলো, ‘কিরে এখনো বাসায় পৌঁছাসনি সেই কখন রওনা হয়েছিস? এত দেরি কেন হলো?
#আমি- আর বইলেন না আজ এক মহা বিপদে পড়েছিলাম পরে সব খুলে বলবো।
#আপা- কি বিপদে পড়েছিলি? কি হয়েছে? এক্সিডেন্ট হয়নি তো? কার কি হয়েছে? তুই এখন কোথায়?
ব্যস্ শুরু হয়ে গেলো আমার বোনের অস্থিরতা আর নানা প্রশ্নের ডালি মেলে ধরা। এটা আমার মায়ের থেকে কয়েক ডিগ্রী ওপর দিয়ে যায়, যে ভয়ে আম্মাকে কিছু বললাম না সেইটাই ভুল করে একে বলে ফেলে আরেক বিপদ।
#আমি- সে অনেক কথা, বাসায় গিয়ে সব বলবো।
#আপা- বাসায় গিয়ে নয় এখনই একটু বল আগে, বাসায় গিয়ে পুরোটা বলিস, কি হয়েছিলো আগে আমাকে একটু বল।
আমি জানি না বলা পর্যন্ত না আপা শান্তি পাবে না আমাকে শান্তি দেবে, তার থেকে একটু বলাই ভালো কিন্তু কথা একটু বললে যে পুরোটা আঁঠি ভেঙ্গে শাঁসটা বার না করা পর্যন্ত আমাকে ছাড়বে না সেটাও জানি কিন্তু কোন উপায় নেই।
#আমি- আর বলেন না গাড়িতে একটা পিচ্চি মেয়ে আমাকে মাম্মাম বলে এই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সংক্ষেপে সব বললাম, এর মাঝে তার হাজারও প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছে। মেয়েটার কথাগুলো শুনে তার যেন মায়া উতলে উঠলো, আহা, ইস্, ওহো, ও আল্লাহ, এসব শব্দ কতবার যে বলেছে তা গুনে বলা মুশকিল।
#আপা- হ্যারে তোর মোবাইল নাম্বারটা দিয়েছিস তো আর মেয়েটার বাবার মোবাইল নাম্বারটা এনেছিস ? পরে একটু কল দিয়ে কথা বলে খোঁজ খবর নিতে পারতি।
#আমি- আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? কত কষ্টে এই আপদটাকে ঘাড় থেকে নামিয়েছি সেটা আমি জানি, এরপরও মোবাইল নাম্বার দিবো যেন সারাটাক্ষণ আমায় কল দিয়ে বলে মাম্মাম তুমি কখন আসবে, তাড়াতাড়ি আসো, এই সেই বকবক করে করে আমার মাথার পোকা গুলো যেন মেরে ফেলতে পারে তাই তো? আপনার যা বুদ্ধি তারিফ না করে পারি না।
#আপা- না রে মেয়েটার জন্য কেমন খারাপ লাগছে, মা মরা মেয়ে। একটু যদি তুই কথা বলতি তাও হয়তো ওর ভালো লাগতো।
#আমি- হয়েছে! আপনার দয়া মায়া আপনার কাছেই রাখেন, আমার ওতো দয়া নেই আপনার মত। সারাদিন মাথাটা এমনি খারাপ হয়ে গেছে আপনার কথা শুনলে আমি পাগলই হয়ে যাবো, রাখলাম বাই। বলেই লাইনটা কেটে দিলাম।
আমি বাড়ি পৌঁছাতেই আম্মা কি হয়েছিলো জানতে চাইলে আমি বললাম এখন কিছু বলতে পারবো না খুব ক্ষুধা লেগেছে আগে খেতে দেন।
আমি চেঞ্জ করে ফ্রেস হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসলাম, এত ক্ষুধা লেগেছে মনে হচ্ছে দুনিয়াই খেয়ে ফেলবো।
আম্মা খাবার বেড়ে দিলো। আমি ভাতটা মাখিয়ে মুখে দেবো এমন সময় হঠাৎ আসার সময়ে পরীর কথাটা মনে পড়ে গেলো, “মাম্মাম তুমি আসলে তবেই আমি খাবো, তুমি এসে আমাকে খাইয়ে দিবা”।
আচ্ছা মেয়েটা কি খেয়েছে কিছু নাকি সত্যি সত্যি না খেয়ে বসে থাকবে আমার জন্য?
#চলবে..
স্বপ্না’স খেয়াল

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.