মরিচীকা — প্রিয়ন্তি মুনা (দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়া গল্প)

আজ প্রথম রুম ডেটে যাচ্ছি আয়ানের সাথে।নিজের ইচ্ছেতে নয় আয়ানের জোরাজোরিতে।দুই বছরের ভালোবাসার প্রমান দিতে যে আয়ানকে কতোটা ভালোবাসি আমি।
আয়ানের সব বন্ধুরা তাদের গালফ্রেন্ডের সাথে যেখানে প্রেমের তিন-চার মাসের মধ্যেই রুমডেট করেছে সেখানে আমার সাথে বিনা র্স্পশে দুই বছর প্রেম- ভালোবাসা আয়ানের কাছে বেশিই সাধুগিরি মনে হচ্ছে ! আয়ানের ভাষায় আমি শহুরে শিক্ষিত ব্যাকডেটেড মেয়ে!
আয়ান যখন রুমডেটের কথা বলছিলো ভাবলাম হয়তো দুষ্টুমি করছে কিন্তু ওর নিরবতাই আমাকে বুঝিয়ে দিলো সে কতটা সিরিয়াস! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারি নি,মনে হচ্ছিল পা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। যাকে নিয়ে আমার পুরো ভবিষ্যত আমার সে কিনা আমাকে অন্যদের সাথে তুলনা করছে,,,,?
আয়ানের কাছ থেকে সাতদিনের সময় চেয়ছিলাম ভাবার জন্য কিন্তু আয়ান বলেছিলো এতো ভাবার কি আছে ? আয়ানের জম্মদিনের উপহার হিসাবে আমাকে নিজের করে পেতে চেয়েছে !
তারপরও আমি তিনদিন সময় নিয়েছি। আজ আয়ানের জম্মদিন।
আয়ানকে তার জন্মদিনের সেরা উপহার দিতে তার দেওয়া ঠিকানায় যাচ্ছি আয়ানের বন্ধুর ফ্ল্যাটে।সেখানে কেউ নেই।
বাসায় আম্মুকে মিথ্যা বলে বেরিয়েছি, ভাবছি নিজেকে আজ শেষ করে দিবো মিথ্যা ভালোবাসার বেড়াজাল থেকে ।
ফ্লাটে পৌছানোর পরে আয়ানকে নিচে পাঠালাম
তার জন্মদিনের কেক আনার জন্য। আয়ান খুশি মনে কিছুক্ষন পরে কেক নিয়ে হাজির।
আমি রেডি হয়ে বসে আছি। আয়ান খাটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, খাটে ঘোমটা টেনে বসে থাকতে দেখে আয়ান হেসে উঠলো। বললো,এতো লজ্জা কিসের? ভালোবাসা মানেই আজকাল রুমডেট।আর তোমাকে পেতে গুনে গুনে দুবছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাকে।
আয়ানের পায়ের আওয়াজে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
ঘোমটা খুলতেই আয়ান চমকে উঠলো, একি এ তো আয়ানের ছোট বোন আনিশা! আনিশা তখন কাদঁছে, তার ভাইয়ের এমন রুপ দেখে হতবিহ্বল। দরজার পেছন থেকে আমি আর আয়ানের মা বেরিয়ে আসলাম।হয়তো আয়ান এই পরিস্থিতিতে নিজেকে কখনো ভাবতে পারেনি।
আয়ানের মা তার আদুরে, ভদ্র ছেলের মুখোশ পরা মুখের উপরে জোরে জোরে চড় মারতে লাগলেন।আর বলতে লাগলেন, আজ যদি আনিশা এমন জায়গায় থাকতো তাহলে আয়ান কি করতো?
আয়ান চুপ করে দাড়িয়ে আছে হয়তো নিজের বোনের এমন অবস্থা ভেবে চোখ থেকে পানিও ফেলছে,,,,
আয়ানের কাছে যেয়ে শুধু করুনা ছাড়া দয়া দেখাতে ইচ্ছে করলো না।
আয়ান নামক মিথ্যা ভালোবাসার জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম।হয়তো দু এক ফোঁটা পানি চোখের কোন বেয়ে ঝড়ছে।
আয়ান তার জম্মদিনের সেরা উপহার হয়তো পেয়ে গেছে।
ফোন বাজছে, স্কিনে তাকিয়ে দেখি আম্মুর নাম্বার । রিসিভ করতেই বললো আজ তোর পছন্দের বিরিয়ানি রান্না করবো। তাড়াতাড়ি বাসায় আয়,,,
এতো ভালোবাসার মধ্যে থেকেও শুধু শুধু মিথ্যা মরিচীকার পিছনে দৌড়াচ্ছিলাম।
কথায় আছে, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। একদম সত্যি……
-মরিচীকা
–প্রিয়ন্তি মুনা
২০/৫/১৯

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.