দৃষ্টিকোণ-২ – শামসুর রহমান এর দৃষ্টিকোণ সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব।

Share On Social

দৃষ্টিকোণ-২

 

“সিঙ্গারা কতো?”
‘পাঁচ ট্যাকা।’
“তিন ট্যাকার সিঙ্গারা পাঁচ ট্যাকা!!”
‘নিলে নে, আর না নিলে ফুট। কইত্তে আইছে হালায়?”

 

অবশেষে একটা সিঙ্গারা হাতে নেয়। বেশী করে পেঁপের সালাদ নিতে দেখে হোটেলের ছেলেটা কেমন করে তাকায়। কিছু করার নেই। সালাদ দিয়েই পেট ঠান্ডা করতে হবে। কারন আজ তার টাকার খুব দরকার।

 

খাওয়া শেষে রাস্তায় বেরিয়ে এসে দেখে, রাস্তায় রঙের মেলা বসেছে। ছোটছোট বাচ্চারা লাল, নীল, গোলাপী রঙের জামাকাপড় পরে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। কারও ঠোঁটের লিপস্টিক কানে গিয়ে ঠেকেছে, কারও আবার হাতের চুড়ি কনুইয়ে।

 

লোকটা রিক্সায় বসে নাক খুঁটতে খুঁটতে কল্পনার গভীরে ডুব দেয়।

 

‘মামা যাইবা? আজ সারাদিন তোমার রিক্সায় ঘুরুম।’

 

যুবকের ডাকে সে সম্বিত ফিরে পায়। যুবকের সাথে একটা মেয়েছেলে দেখা যাচ্চে। ইদানিং এই বয়সের ছেলেমেয়েরা তাকে মামা সম্বোধন করে। ভালোই লাগে শুনতে।

 

“যামু মামা, ভাড়াটা একটু বাড়ায়া দিয়েন।”

 

যুবক-যুবতী রিক্সায় উঠে রাজ্যের আলাপ শুরু করে। লোকটা শুনে, আর একটু একটু হাসে।

 

লোকটা রিক্সা চালায়। রোদে পোড়া কালো নগ্ন পিঠে হীরা চিকচিক করে। চিবুক বেয়ে দু’ফোটা লবনাক্ত হীরা ধরনীতে আছড়ে পড়ে। লোকটার পায়ের পেশীযুগল যুবককে ঈর্ষান্নিত করে।

 

‘মামা, ওইখানটায় থামো। কয়টা ছবি তুইলা ফেসবুকে দিমু।’
কপোত-কপোতী যখন ছবি তুলতে ব্যস্ত, লোকটা তখন নাক খুঁটতে থাকে।

 

‘মামা একটা পোজ দাওতো……এইতো।’
“ছবি দিয়া কি করবেন মামা?”

 

‘আরে মাম্মা, তোমার ছবি কি জাদুঘরে দেখবার চাও? তোমার ছবি দিয়া কমেন্ট ফটো বানামু। কিছু বুঝলা?’

 

লোকটা মাথা নাড়ায়। বুঝেনি। এতকিছু বুঝতে হয়না।

 

আকাশে ওগুলো কি? বেলুন? মেয়েটার শখ ছিলো গ্যাসভর্তি বেলুন নিয়ে খেলবে। আজ একই সাথে ঈদ, আবার তার মেয়ের জন্মদিনও।
লোকটা দেখতে পায় তার মেয়েকে, একহাতে গোলাপী হাওয়াই মিঠাই, আরেকহাতে বেলুন। মুখে পৃথিবীর সবকিছুকে ম্লান করা সুন্দরতম সে হাসি।

 

‘মামা দেখি বইয়া বইয়া ঠান্ডার মধ্যে আন্ডা পারতে লাগছো। চলো।’

 

লোকটা রিক্সা চালাচ্ছে পিঁচঢালা রাস্তায় তার লবনাক্ত তরল হীরা ছিটাতে ছিটাতে।
রাস্তাটা তার কাছে কতোটা ঋণী, কেউ না জানলেও, কেউ একজন সেটা অবশ্যই জানে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.