দিক পাশ (৫ম এবং শেষ পর্ব)

পরীটাকে আমার চাইই চাই। ভাবলাম একটা ফোন দিয়ে এক্ষুণি বলে দেই সব। কিন্তু না, একটা সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়! সাদা শার্টটা গায়ে দিয়ে বের হয়ে গেলাম ঢাকা ভার্সিটির উদ্দ্যেশ্যে। এক ঝুড়ি কাঁচের চুড়ি নিয়ে ফুলের দোকান থেকে একটা গোলাপের তোরা নিয়ে নিবিতার বাড়িরর দিকে রওনা হলাম। ভাবছি কতটা অবাক হয়ে যাবে ও! রিকশা থেকে নেমে ওর বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লাম। নিবিতার মা বের হয়ে এলো, -“আরে অনয়! খুব ভালো করেছো এসে পরেছো। এসো বসো।” -“আন্টি নিবিতা কোথায় একটু ডেকে দিন, জরুরী কথা বলে চলে যাবো।” -“আরে বসো, ও আসছে। ” আমি ঘরে ঢুকেই দেখি ঘর ভর্তি মানুষ। আমি বসে আছি, খুব অস্বস্তি লাগছে! নিবিতাকে ফোন করলাম, -“নিবিতা তুমি একটু বের হও কিছু কথা আছে প্লিজ।” -“আমি এখন বের হতে পারছি না। আমার ছোট ভাইকে পাঠাচ্ছি ওর সঙ্গে আমার ঘরে আসুন।” ও কিছুক্ষণ পর ওর ছোট ভাইকে পাঠালো, ওর ঘরে গেলাম। রুমটা এলোমেলো হয়ে আছে। জানালার কাছে দাড়িয়ে নিবিতা। খোঁপায় গাজরার মালা, হাতে চুড়ি, নীল রঙের শাড়িতে অপরূপ লাগছে। ওকে ডাকতেই ও ঘুরে দাড়ালো। আমি ওর হাতটা ধরে বলতে লাগলাম, -“নিবিতা আমি জানি আমি তোমায় কষ্ট দিয়েছি, আমি খুব বাজে ছেলে। তবে আমি এবার সত্যি সত্যি ভালোবেসেছি। তোমাকে ছাড়া আমার একটা মুহূর্ত কাটতে চায় না। সারাদিন তোমার ভাবনায় মগ্ন থাকি। আমি ভিষণ ভালোবেসে ফেলেছি তেমায়! তোমায় প্রেমের প্রস্তাব দিতে আসিনি, এসেছি সম্পূর্ণ অধিকারে আপন করতে। will you please marry me? ” -“আজ আমি কেনো সেঁজেছি জানতে চাইলেন না? বাড়ি ভর্তি এত লোক কেন? একবারও জানতে হচ্ছে হলো না? আমি মেহেদী পরেছি দেখেছেন? অনয়। আর এটা অন্য একজনের নামের, আর সে একজনের জন্য আমি আজ সেঁজেছি।” -“নিবিতা কি সব বলছো! প্লিজ এসব বলো না আমি বাঁচতে পারবো না।” -“আজ আমার কাবিন অনয়!” আমার মাথা ঝিম ধরে গেলো, -“নিবিতা, তুমি আমায় ভালোবাসো। এ বিয়ে তুমি করো না,আমি তোমায় এক্ষুণি বিয়ে করবো। আমি আন্টির সঙ্গে কথা বলছি।” আমি সেখান থেকে বের হয়ে যেতে লাগলাম, এমন সময় নিবিতা বলল… -“আমি যখন সুসাইড করতে যাই মুরাদ আমাকে বাঁচায়, ও আমার প্রত্যেকটা সময় নিজে অনুভব করেছে। কুষ্টিয়ায় আপনি যখন আমায় অপমান করলেন, মুরাদ আমায় সাহস দিয়েছে প্রতিটা,মুহূর্তে। আজ আমি যা আছি, যেমনই আছি তা ওর হাতে বানানো। এই সম্পূর্ণ আমার আমিকে যদি কেও ভালোবেসেছে সে শুধু মুরাদ।” -“কিন্তু তুমি ওকে ভালোবাসো না।” -“ও আমার সেই সময়ে পাশে ছিলো যখন আমি অসুন্দর ছিলাম। এখনকার আমিকে তৈরী করেছিলো এই মুরাদই। জানেন? আপনি আসার পর ও আমায় কি বলেছে? ও বলেছে – “তুমি চাইলে তার কাছে যেতে পারো, তোমার চোখের কান্না আমি সইতে পারবো না। আমি একটু ও কষ্ট পাবো না।” বলুন তো এমন একজনকে আমি কি করে ছেড়ে দেবো, যে সারাটাক্ষণ আমার সঙ্গে থেকেছে।” -“নিবিতা প্লিজ। আমাকে ক্ষমা করো, তোমায় ছাড়া আমার থাকা অসম্ভব।প্রতিটা মুহূর্ত আমি তোমায় নিয়ে ভাবি।” -“আজ আমি মুরাদের মতো করে সেঁজেছি, আমি ওকে ভালোবাসি। আপনি বন্ধু হিসেবে এসেছিলেন তাই আছেন,এবং থাকবেন।” আমি বাক্ রুদ্ধ হয়ে গেলাম! নিবিতার চোখে পানি ছিলো, আর আমার চোখেও! আমি ভালোবাসা বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলেছি। হৈ হুল্লোরে ভরে উঠেছে, বর এসেছে। আমি নিবিতার দিকে তাকিয়ে আছি, আজ আমি আমার জন্যই ওকে হারিয়ে ফেললাম। নিবিতা চলে গেলো অন্য ঘরে। আমি বের হয়ে আসার সময় নিবিতার মা দাড়িয়ে, -“আরে, কোথায় যাচ্ছ? বসো আজ ওর বিয়ে। বিয়েটা হয়ে গেলে খাওয়া দাওয়া করে যেও।” -“আমি চোখে অশ্রু লুকিয়ে বললাম, -“না আন্টি। আজ নয়। এ উপহার গুলো নিবিতার জন্য, ওর বিয়ের উপহার। আজ আসি। ” গিফটগুলো উনার হাতে ধরিয়ে বের হয়ে গেলাম…। এটাই হয়তো আমার শাস্তি ছিলো! সত্যিকারের ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, নিয়তির শাস্তি। অঝোরে কান্না হারাবার ব্যথায় বুকের কোনে জমা কষ্ট সহ্য করা যায় না। ৭ দিন কেটে গেলো আমার মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতপ করতে। ল্যপটপ খুলে ফেইসবুকে লগইন করতেই নিবিতার বিয়ের ছবি! চিৎকার করে অঝোরে কাঁদলাম। ওর সঙ্গে অন্য কাউকে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার আইডিটা চিরতরে ডিয়েকটিভেট করে দিলাম। আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো কি না জানি না, কারো ভালোবাসার যোগ্য আমি নই। ২ বছর কেটে গেলো এখনো যখন মাঝে মাঝে ওর কথা মনে পরে, মধ্য রাতে সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘর হয় বিভীশিখাময়, পুরোনো আইডিটা ওপেন হয় ১০ মিনিটের জন্য শুধু ওকে একবার দেখার জন্য। কেমন আছে জানার জন্য, ওর চোখদুটোর মায়ার জন্য।ওর কাঁচের চুড়ির রঙের জন্য। মধ্যরাতে জীবিত হয় কিছুক্ষণের জন্য আমার মৃত একাউন্টটা! মৃত্যু যন্ত্রণার কান্না আবারও কাঁদি, ওর পাশে অন্য কেও! নিবিতা আমার ছিলো, লিখতে ইচ্ছে হয় সে অনলি মি করে রাখা ওর ছবিটা ওয়ালে দিয়ে, “অচেনা বালিকার প্রেমে পরেছি?”। গল্পটা কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.