দিক পাশ (১ম পর্ব)

Share On Social

রাফিদের বিয়ে। চারিদিক হৈ হুল্লোর।সবাই বউয়ের ফটোসেশনে ব্যস্ত, আমি চেয়ারে বসে আছি।হারামিগুলার আসার খবর নাই, বন্ধুগুলা সবসময়কারই লেট লতিফ। হঠাৎ মনে হলো চেনা মুখ দেখলাম! আরে! হাড়িয়ে গেলো! খুঁজতে লাগলাম….চেনা চেনা মুখটা,হাড়িয়ে গেলো। বন্ধুরা চলে এসেছে,সবাই মিলে খেতে বসলাম। ও মাই গড! এই মেয়েটা! আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম। এ নিবিতা! এসে ঠিক আমার বরাবর সিটটায় বসলো,আমরা খেতে বসলাম। আমার চোখ ফিরছে না, বিশ্বাসই হচ্ছে না এটা নিবিতা। কত গেঁয়ো টাইপ মেয়ে অপ্সরা হয়ে গেছে! ও আমাকে খেয়াল করেনি, বান্ধবীদের সাথে হাসাহাসি করছে। আমি খাচ্ছি আর আড়চোখে তাকাচ্ছি। হঠাৎ ওর চোখ পড়লো আমার দিকে…. আমাকে দেখে থ হয়ে গেছে হয়ত। আমি হালকা একটু হাসি দিতেই ও চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলো, ওর বান্ধবীরা ওর এ কাজে অবাক। পিছ থেকে অনেকবার ডাকছিলো কিন্তু ফিরলো না। আমার ভিষণ মনে বাঁধলো, ও এরকম রিয়েক্ট করবে ভাবিনি।আমি কোনোরকম খেয়ে উঠে গেলাম, মনটাই নষ্ট হয়ে গেছে। স্টেজের সামনে দাড়িয়ে রাফিদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, রাফিদ নিবিতাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল- “এটা আমার শালীকা।” আমি অবাক হয়ে বললাম- “ওর কি বড় বোন আছে নাকি!” রাফিদ হেসে বলল- “আরে ব্যটা চাচাত বোন। আমার বউ একাই,কিন্তু এই মেয়েটা ছাড়া মজা করার কেও নেই। চাচাত শালীই আপন শালী।” -“ওহ! তাই বল।” আমি কথা বলে কয়েকটা ছবি তুলে স্টেজ থেকে নেমে গেলাম। যথারীতি নিবিতা আমার চোখে পরছিলো বার বার কিন্তু ও আমার দিকে একটি বাটও তাকাচ্ছিলো না। ও যেনো আমাকে চিনতেই পারছে না! অবশ্য রাগ থাকাটাই স্বাভাবিক, আমি হয়ত ইকটু বেশিই করে ফেলেছিলাম। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলাম, মুড রিফ্রেশ করার জন্য বারান্দায় গিটারের তাঁরে টুংটাং সুর তুলছিলাম।ঢং শব্দ করে তাঁরটা ছিড়ে গেলো সঙ্গে আঙ্গুলের মাথাটাও কেটে গেলো! কি সাঙ্ঘাতিক! আজকের দিনটাই খারাপ। সিগারেটটার মাথায় আগুন দিয়ে ল্যপটপটা খুললাম, ফেসবুকে লগইন করেই রাফিদের বিয়ের ছবি। হলুদে যাইনি, অফিসের কাজ ছিলো তাই। এ্যলবামটা দেখতে লাগলাম, নিবিতার সঙ্গে রাফিদের সেলফিতে আটকে গেলাম। এই মেয়েটা কেমন হুরপরী হয়ে গেছে! সব মনে হয় আটা ময়দার কারবার! ? মুচকি একটা হাসি দিয়ে ভাবলাম- নাহ্ আসলেই এট্রাকটিভ হয়ে গেছে মেয়েটা, বলতে হবে। কই মোটা করে কালো মেয়েটা, মাথা লেপ্টিয়ে আঁচরানো কোকড়া চুলের ভয়াবহ মেয়ে! আর কই স্বর্গের পরী….কেমনে সম্ভব?! ছবিতে ট্যাগ নেম এ ডুকলাম। আইডি নাম নিবিতা নীলি। ওর আইডিটা অসাধারণ ভাবে সাজানো, যদিও কোনো ছবি দেখা যায় না তবু ইনফোটা দারুন। এবাউটে লেখা – “কালো মেঘের মতে আমি, নীলাভ ছায়ার চেয়েও দামি।” ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম, জানি এ্যড না করার সম্ভবনাই বেশি তবুও যাস্ট ট্রাই আরকি। কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি খেয়াল করিনি, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ল্যপটপ ওপেন। নটিফিকেশন চেক করলাম, অবাক হলাম নিবিতা আমায় এড করেছে! ওয়াও, খুশি লাগছিলো খুব।ওর আইডিটা ঘুরে দেখলাম ছবিগুলো এত শুভ্র! প্রেমে পরে যেতে ইচ্ছে করবে যে কারোই। যাই হোক, ফ্রেশ হয়ে অফিসে চলে গেলাম। কাজের চাপে দুদিন ভয়াবহ ব্যস্ততায় কাটলো। দুপুরে রাফিদ আমাকে কল করলো- “কিরে মামা, খবর কি? সেই যে ভাগলি আর ফোনও দিলি না!” -“সরি দোস্ত! চাকরি করি তো ভাই ব্যস্ত জীবন আমার। তা বল, কেমন চলছে নতুন জীবন?” -“হুম, যায় যেমন দোয়া করছিস।” -“আমি কোনো দোয়া করি নাই কিন্তু ? তার মানে কি যায় না জীবন?” -“হাহাহা…. হারামি। শোন, আমার শ্বশুর বাড়ি দাওয়াত তোদের সবার। তোর ভাবি পিঠা খাওয়াবে।” -” বাহ! দুধ পুলি না হলে যাচ্ছি না আগেই বললাম।” -“ওকে, কাল সন্ধ্যায় এসে পরবি কিন্তু।” -“ওকে, রাখি।” রাফিদের শ্বশুড় বাড়ি এখান থেকে কাছেই,কাল সরাসরি অফিস থেকেই যাওয়া যাবে। চলবে…..

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.