উত্তম নারীর কর্ম

কতটা বাধ্য হলে একজন নারী, তার সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় মুচির কাজ করতে পারে, এবং সাথে সাথে দ্বীনের কমিটমেন্টও বজায় রাখাতে পারে, তা কিছুটা হলেও অনুভব করা যায় ছবিটা দেখে। তথাকথিত নারীবাদীদের দেখবেন শুধু “পুরুষের মনোরঞ্জন” হয়, এমন কাজগুলোতে নারীকে উৎসাহিত করতে। এটা কাকতলীয় না, কারণ কথিত নারীবাদীরা যেই খুঁটির বলে ম্যাতকার করে, সেই খুঁটির জোরও সেই পুরুষদের থেকেই আসে।
.
নিজেদের অপরাধ, খারাপ চিন্তা নিজেদেরর প্রতিপক্ষের উপর কোন ভিত্তি ছাড়াই আরোপ করা হল মিডিয়ার যুগের অন্যতম অনৈতিক অস্ত্র। এবং এসব নারীবাদীরা তাদের সমর্থক সেসব পুরুষদের লুইচ্চামীগুলো তাদের উপর আরোপ না করে উল্টো নিরপরাধ, এবং দুর্বলদের উপর আরোপ করে, বিশেষ করে আহলুল ইসলামদের উপর, যেন ইসলামকে একহাত দেখে নেয়া যায়।
.
যেমন ধর্ষণের ইস্যুতে তারা বার বার পর্দা করেও কেন ধর্ষিত হয়, শিশু হয়েও কেন ধর্ষিত হয়, এসব ইস্যু তুলে পর্দার বিধানকে নালিফাই করার চেষ্টা চলায়। অথচ কখনোই দেখবেন না তারা হাইপার সেক্সুয়াল সোসাইটির কোর বিষয়গুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে। কারণ সেগুলোর সার্ভার আসলে তারা নিজেরাই।
.
তারা স্যেকুলার ড্যেমক্রেটিক প্রশাসন, আইন এবং বিচার ব্যবস্থা যৌক্তিকতা, সচ্ছতা, এবং ব্যর্থতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলবে না। ব্যাক্তি অথবা গোষ্ঠীর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেউ কেউ, কিন্তু কখনোই মৌলিক স্যেকুলার আক্বীদা এবং সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না। অথচ সুযোগ পেলেই ইসলামের বিধানগুলো এ যুগে অচল বলার চেষ্টা করবে। তাদের ব্যর্থ সিস্টেম নিয়ে চুপ, আর আল্লাহর সিস্টেমকে ইমপ্লিমেন্টের সুযোগ না দিয়েই, এটা ব্যর্থ এটা ব্যর্থ বকে জনগণের কাছে চিৎকার করার অর্থ কী, সেটা যারা বুঝার তারা ঠিকই বুঝতে পারছে।
.
যারা তাদের এসব কুযুক্তিতে বিভ্রান্ত হয়, তাদের লাইফ স্টাইল দেখে অভিভূত হয়, তারাই ফেমিনিসম গ্রহণ করে। নারীদের প্রতি যে নির্যাতন হয়, তা ইসলাম দিয়েই সমাধান সম্ভব। কেউ যদি মনে করে ইসলামে এর সমাধান নেই, তবে সে কুফর করল। বরং ইসলামকে সঠিকভাবে না মানার কারণেই নারীর প্রতি যুলম করা হয়, তার অধিকার খর্ব করা হয়। অথচ নারীর প্রতি যুলুমকে পুরুষতান্ত্রিকতার ফসল হিসেবে চালিয়ে একটি ভেদাভেদ সৃষ্টি করে পারিবারিক ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দিচ্ছে এই কথিত নারীবাদী মাথামোটারা।
.
নারীকে পুরুষ বানিয়ে নারী নির্যাতন বন্ধ করা এই কারণেই সম্ভব নয়, কারণ আগে যে ঘরে নির্যাতিত হত, এখন সে বাহিরেও নির্যাতিত হবার জন্য এ্যাভেলএ্যাবল হবে। অর্থনৈতিক সাবলম্বন কি ব্যাক্তিকেন্দ্রিক? তাহলে নারী একা সাবলম্বী হয়ে কার কি উদ্ধার করবে? টাকা নারীকে নির্যাতন থেকে উদ্ধার করতে পারবে?
.
যারা বলে পর্দা ডাসেন্ট ম্যাটার, পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গিই শুধুমাত্র দায়ী, ঠিক তারাই আবার উইমেন ইম্পাওয়ারমেন্টের কথা বলে যেন পুরুষরা তাদের ক্রিমিনাল পাওয়ার প্রয়োগ করতে না পারে। এক্ষেত্রে কেন পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর কথা বলা হল না। সেফটি হিসেবে টাকা ইনকামের কথা বলা হল কেন? টাকা কি তাকে ধর্ষকদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারবে? অত্যাচারী স্বামীর হাত থেকে? তাহলে সেফটি হিসেবে পরিপূর্ণ পর্দা, মাহরামের সাথে সফর নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হয়?
.
বরং অর্থনৈতিক সাবলম্বন নয়, চারিত্রিক সাবলম্বন-ই শ্রেষ্ঠ ইম্পাওয়ার্মেন্ট। সেটা নর-নারী উভয়ের জন্য। হিজাব শুধু পোষাক নয়, আচার-আচরণ, চিন্তা-ভাবনা, এবমনকি রাস্তা-ঘাটে চলাচলের বিধানও এর সাথে যুক্ত, যেমন মাহরামের সাথে নারীদের সফরের বিধান।
.
তো এগুলো নজরে না রেখে, কোন ইনসিডেন্ট ঘটলেই ধর্ষকদের বদলে যেন হিজাবের বিধানকে এবং এর প্রচারকদের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দিতে পারলে স্যেকুলাররা চরম মজা পায়। অথচ কি কারণে ছেলেগুলো ধর্ষক হয়ে যাচ্ছে, কিভাবে তাদের বিচার-বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে, কারা তাদের ধর্ষক মস্তিষ্ককে সার দিয়ে আবাদ করছে, এসব নিয়ে তারা প্রশ্ন করবে না। কারণ তারা নিজেরাই এসব কাজে জড়িত। নীচ দিয়ে গাছ কাটে, উপর দিয়ে পানি ঢালে।
.
দৃষ্টিভঙ্গি ত‌ো পরিবর্তন করতেই হবে। নার-নারী উভয়েরই। বাবা-মা, ভাই-বোনদেরও। একজন ডিভোর্সড নারীকে কেন তার বাপ-ভাই বোঝা মনে করবে? এইটা তো ইসলামের রীতি নয়। নারী এসেছে পরের ঘর করার জন্য, এই রীতি তো হিন্দুস্তানের প্যাগানদের কওল। আমরা কেন সেটা ইনহ্যারিট করে ডিভোর্সড অথবা বিধাবাদের বোঝা মনে করবো?
.
অথচ নির্লজ্জের মত টাকা-পয়সা দেখে পাত্রের কাছে বিয়ে দিব, চরিত্রের কিছুই দেখবো না। পরে মেয়ে পিটালে মেয়ে যেন তালাক দিয়ে এসে নিজে চলতে পারে সে জন্য তাকে চাকরী করতে পারে এমন ভাবে গড়ে তুলব। সে চাকরী করতে না পারলে সে তো বোঝা! কই এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তো স্যেকুলাররা কথা বলে না!
.
আগে যত নারী নির্যাতন হত, এখন এর চেয়েও বেশি হয়। পারিবারিক সহিংসতা আগের চেয়েও বেড়েছে। টাকা দিয়ে সমাধান করার চিন্তা, বস্তুবাদী মানসিকতা প্রোমট করে স্যেকুলাররাই যৌতুককে একপ্রকার স্বীকৃতি-ই দিচ্ছে।
.
আগে মেয়ের বাপ যৌতুক দিত, এখন চাকরীজীবি মেয়ে নিজে ইনকাম করে যৌতুক দিবে। অর্থাৎ যতই ঘাটবেন ততই তাদের মনগড়া নীতির ব্যর্থতা খুঁজে পাবেন। নতুন যেটা পাবেন সেটা হল, মেয়ের পড়া-লেখা করতে চায় না, জানতে চায় না; তারা শো-অফ করতে চায়। রাজপুত্র তো আর এই যামানায় নেই, তাই তারা বয়ফ্রেন্ড চায়।
.
কিছু মেয়ের উদাহরণ দিয়ে পুরো সমাজটার চিত্র দেখানো যায় না। পড়ালেখার জন্য যাদের বাবা-মায়েরা ছেড়ে দিয়েছে, তারা এখন মূলত প্রেম করার জন্যই, বন্ধু-আড্ডায় ভেসে গিয়ে নিজেদের সত্যকে অস্বীকার করার কাজেই বেশি মনোযোগী। আর স্যেকুলারিসমের স্রষ্টা শয়তানর সেটাই চায়। সত্যকে ভুলে যাবে, এবং যখন সত্য সমানে উপস্থিত হবে তখন যেন মেরুদন্ড সোজা না করে সত্যাকে স্বীকার করতে না পারে, সেটার জন্য সবকিছুকে প্রস্তুত করতে হবে।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
লেখাঃ ইবন মাজহার (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.